কৌশিকী অমাবস্যার আগে রামপুরহাটে অগ্নি-নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, হোটেল-লজ মালিকদের হাতে-কলমে শিক্ষা দমকলের
Bengal icon news রামপুরহাট: কৌশিকী অমাবস্যাকে কেন্দ্র করে তারাপীঠে যখন জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে, তখন পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের নিরাপত্তায় অগ্নি-নিরাপত্তার উপর বিশেষ জোর দিল প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে রামপুরহাটের রক্তকরবী মঞ্চে দমকল বিভাগের পক্ষ থেকে আয়োজিত হল অগ্নি-নিরাপত্তা ও অগ্নি-দুর্ঘটনা প্রতিরোধ বিষয়ক সচেতনতা এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
তারাপীঠের বিভিন্ন হোটেল, লজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত ছিলেন মহকুমা শাসক, রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা, তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ প্রশাসন, পুলিশ, দমকল এবং বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা।
কৌশিকী অমাবস্যার সময় তারাপীঠে পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুল সংখ্যক মানুষের থাকার ব্যবস্থা হয় হোটেল ও লজগুলিতে। ফলে এই সময় অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে তা বড় আকার না নেয়, সেজন্য আগেভাগেই হোটেল-লজের মালিক ও কর্মীদের প্রশিক্ষিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে আগুন লাগার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত ও শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে, কীভাবে নিরাপদে অতিথিদের বের করে আনতে হবে এবং কোন পরিস্থিতিতে দ্রুত দমকলকে খবর দিতে হবে—তা বিস্তারিতভাবে বোঝানো হয়। পাশাপাশি ফায়ার এক্সটিংগুইশার কীভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হয়, দমকল কর্মীদের পক্ষ থেকে তার হাতে-কলমে প্রদর্শন করা হয়।
হোটেল ও লজগুলিতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা সচল রাখা, জরুরি বহির্গমন পথ খোলা রাখা, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও রান্নাঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কর্মীদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা থাকলেই হবে না, জরুরি মুহূর্তে সেটি কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, সেই প্রশিক্ষণও থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে কৌশিকী অমাবস্যার মতো বড় উৎসবের সময় বিপুল মানুষের সমাগমে সামান্য অসাবধানতাও বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রশাসন, পুলিশ, দমকল এবং মন্দির কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৌশিকী অমাবস্যার আগে এমন সচেতনতা ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ তারাপীঠে আগত পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।
প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট—দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা, প্রশিক্ষণ এবং দ্রুত পদক্ষেপই পারে বড় বিপদ এড়াতে।