
*নদী বাঁচানোর বার্তা নিয়ে কৃষ্ণনগর থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দুই প্রবীণ সাইক্লিস্টের*
পিয়ালি বোস
Bengal icon news কৃষ্ণনগর:চোখের সামনে বছরের পর বছর ধরে দুটি নদী শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। সেই নদীগুলির পুনরুজ্জীবনের জন্য উদ্যোগী হলেন দুই প্রবীণ পরিবেশপ্রেমী। নদিয়া তথা কৃষ্ণনগরের ইতিহাস ও জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে জলঙ্গী ও অঞ্জনা নদী। কিন্তু নজরদারির অভাবে নদীগুলি ক্রমশ সংকুচিত হয়ে নর্দমায় পরিণত হচ্ছে, কোথাও আবার নদীর অস্তিত্বই বিলুপ্তপ্রায়। নদীর দুই তীরে বেআইনি নির্মাণ ও নদী ভরাটের কাজ অবাধে চলছে। তাই নদী দুটিকে পুনরুদ্ধারের দাবিতে এবং নদী বাঁচানোর জরুরির কথা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে নদিয়ার কৃষ্ণনগর থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে সাইকেলে পাড়ি দিলেন ৮০ বছরের প্রবীণ তারকচন্দ্র পাল ও দুলাল বিশ্বাস।
সোমবার কৃষ্ণনগর পোস্ট অফিস মোড় থেকে এই দীর্ঘ সাইকেল যাত্রার শুভসূচনা হয়। যাত্রীদের সাইকেলে লেখা রয়েছে বিশেষ বার্তা—‘সেভ জলঙ্গি’। বয়স যে কেবল একটি সংখ্যা, তা প্রমাণ করে প্রায় ৮০ বছর বয়সেও নদী ও পরিবেশ সুরক্ষার এই মহান ব্রতে শামিল হয়েছেন দুলালবাবুরা। অভিযাত্রী তারকচন্দ্র পাল জানান, ২০২১ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে নদীদুটিকে পুনরুজ্জীবিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিতেই তাঁদের এই উদ্যোগ। আগামী ৫ই অক্টোবরের মধ্যে দিল্লিতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দিয়ে নদী ও পরিবেশ সুরক্ষার আর্জি জানাবেন তাঁরা।
কেবল জলঙ্গী বা অঞ্জনা নয়, দিল্লি যাওয়ার দীর্ঘ পথজুড়ে যে সমস্ত নদীর করুণ দশা চোখে পড়বে, সেগুলির সার্বিক চিত্রও কেন্দ্রের কাছে তুলে ধরবে বলেই জানা গেছে। তাদের দাবি, বর্ষার কদিন নদীতে সামান্য জল থাকলেও বছরের বাকি সময় নদীখাত শুকিয়ে বালি ও চরে পরিণত হয়। নদীকে কৃত্রিমভাবে মেটানোর চক্রান্ত বন্ধ করতে প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা দাবি করেছেন তাঁরা। দুলাল বিশ্বাস বলেন, “সরকারের বিরোধিতা করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং সরকারকে নদী ও পরিবেশ বাঁচানোর কাজে আরও সক্রিয় করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” নদী না বাঁচলে নদিয়া, পশ্চিমবঙ্গ তথা সমগ্র দেশ চরম সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই প্রবীণ সাইক্লিস্টরা। কৃষ্ণনগর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ পথচলা দিল্লির দরবারে জলঙ্গী সুরক্ষার দাবি কতটা জোরালো করে এখন সেটাই দেখার।