গঙ্গার জল বাড়তেই ভূতনীতে বাঁধ কেটে বন্যার জল নামানোর উদ্যোগ
#bengaliconnews মালদহ:গঙ্গার জল দ্রুত হারে বাড়তে থাকায় মালদার মানিকচকের ভূতনীজুড়ে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যাকবলিত বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় দুই থেকে তিন ফুট জল বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অবশেষে প্রশাসনিক উদ্যোগে ভূতনীর দক্ষিণ চণ্ডীপুর এলাকায় বাঁধ কেটে ফুলহার নদীপথে বন্যার জল বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হল। বাঁধ কাটার পরই দ্রুত গতিতে জল নামতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বানভাসি মানুষের মধ্যে।উল্লেখ্য, গত ৩ সেপ্টেম্বর বাঁধ ভেঙে ভূতনী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই গঙ্গার জল অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকায় ভূতনীর বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয়। ভূতনীর তিনটি অঞ্চলের মিলিয়ে দুই লক্ষাধিক মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, কৃষিজমি-সহ বিভিন্ন এলাকা জলের তলায় চলে যায়।এই পরিস্থিতিতে বন্যার জল দ্রুত নামানোর জন্য দক্ষিণ চণ্ডীপুর এলাকায় বাঁধ কেটে দেওয়ার দাবি উঠতে থাকে বিভিন্ন মহল থেকে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের তরফে বাঁধ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এদিন সকাল থেকেই জেসিবি মেশিন দিয়ে দক্ষিণ চণ্ডীপুর এলাকায় মাটির বাঁধ কাটার কাজ শুরু হয়। মানিকচকের বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডলের উপস্থিতিতে প্রশাসনের উদ্যোগে এই কাজ সম্পন্ন করা হয়।বাঁধ কাটার পর ফুলহার নদীর দিকে জল বেরিয়ে যেতে শুরু করে। এর ফলে ভূতনীর বন্যাকবলিত একাধিক এলাকায় জলস্তর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, বাঁধ কেটে জল বের করে দেওয়ায় নতুন করে এলাকায় জল বাড়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। তবে গঙ্গার জলস্তর এখনও উদ্বেগজনক থাকায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।
বাঁধ কাটার কাজ শেষ হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মানিকচকের বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল বলেন, সকলের সঙ্গে আলোচনা করেই দিনের আলোয় বাঁধ কেটে বন্যার জল নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য বন্যাদুর্গত প্রতিটি মানুষের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া।পাশাপাশি বন্যার কারণে যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ পরিষেবা দীর্ঘসময় বিচ্ছিন্ন না থাকে, তার জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানান বিধায়ক। দুর্গত মানুষের পাশে থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ ও প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।