
গণেশ বন্দনায় বনগাঁ—শহর থেকে গ্রাম, বাজারজুড়ে সনাতনী আবহ
Bengal icon news বনগাঁ:বিশ্বকর্মা পূজা,দুর্গাপুজোর আগেই গণেশ বন্দনায় উৎসবের রঙে সেজে উঠেছে সীমান্ত মহকুমা বনগাঁ। শহরের বড় বাজার থেকে গ্রামের ছোট হাট—বনগাঁ মহকুমার বিভিন্ন বাজার ও ব্যবসায়িক এলাকায় গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট গোষ্ঠীতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আয়োজন করেছেন গণেশ পুজোর। মণ্ডপ, আলোকসজ্জা, পুজোর সামগ্রী এবং ভক্তদের উপস্থিতিতে বহু এলাকাতেই দেখা যাচ্ছে উৎসবের ব্যস্ততা।
স্থানীয় উদ্যোক্তাদের দাবি, বনগাঁ মহকুমার শহর ও গ্রাম মিলিয়ে ইতিমধ্যেই কয়েকশ বারোয়ারি গণেশ পুজোর আয়োজন হয়েছে। ফলে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি পুজো মণ্ডপ নয়, বাজারকেন্দ্রিক এলাকাগুলিতেও ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আবহ। একদিকে ব্যবসায়িক ব্যস্ততা, অন্যদিকে গণেশ বন্দনা—দুইয়ের মেলবন্ধনে বাজারগুলিতে তৈরি হয়েছে আলাদা পরিবেশ।
বিশিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়কারী ব্যবসায়ী ধনঞ্জয় দেবনাথ বলেন, “তৃণমূলের শাসনে হিন্দু কথাটা বলা অপরাধ ছিল। রাজ্যে হিন্দুত্ববাদী সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ব্যবসায়ীরা প্রাণখোলা উচ্ছ্বাসে আরাধ্য দেবতা গণেশের পুজোয় সামিল হচ্ছেন।”
গণেশ চতুর্থী মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক মিলনের উৎসব। তবে এ বছর বনগাঁ মহকুমায় এই উৎসবের ব্যাপ্তি এবং বাজারভিত্তিক অংশগ্রহণ ঘিরে সমস্ত মহলেই বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ বাজারগুলিতেও ব্যবসায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ চোখে পড়ছে। অনেক জায়গায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগেই পুজোর আয়োজন করে উৎসবকে সর্বজনীন রূপ দিয়েছেন।
পেট্রাপোলের জিরো পয়েন্ট থেকে শিউলি পুকুর, বাগদা থেকে বেড়ি-গোপালপুর—অর্থাৎ কার্যত গোটা বনগাঁ মহকুমাজুড়েই ছড়িয়ে পড়েছে গণেশ চতুর্থীর সনাতনী আবহ। শহর ও গ্রামীণ বাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন মোড় ও ব্যবসায়িক এলাকায় পুজোকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে আধ্যাত্মিক পরিবেশ। কোথাও ভক্তিগীতি, কোথাও প্রসাদ বিতরণ, আবার কোথাও ছোট আকারের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।
দুর্গাপুজোর ঠিক আগে গণেশ চতুর্থীকে ঘিরে বনগাঁয় এই উৎসবের ব্যাপকতা ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। পেট্রাপোলের জিরো পয়েন্ট থেকে বাগদার প্রত্যন্ত এলাকা—সর্বত্র গণেশ বন্দনার এই আবহ যেন দুর্গোৎসবের আগে সনাতনী সংস্কৃতির এক আগাম বার্তা। উদ্যোক্তাদের আশা, আগামী দিনে বনগাঁয় গণেশ চতুর্থীর আয়োজন আরও বিস্তৃত হবে এবং দুর্গাপুজোয় উৎসবের এই আবহ আরও বড় আকার নেবে।