
সাবেকিয়ানাতেই আস্থা অন্নপূর্ণার, ৯৩তম বর্ষে মাতৃমূর্তিই প্রধান আকর্ষণ
Bengal icon news হাওড়া: থিমের চাকচিক্য নয়, সাবেকিয়ানার ঐতিহ্যেই আস্থা। বছরের পর বছর সেই পরম্পরাকে ধরে রেখেই দুর্গোৎসবের আয়োজন করে আসছে মধ্য হাওড়ার দেশপ্রাণ শাসমল রোডের ব্যাঁটরা অন্নপূর্ণা বারোয়ারি ও হাওড়া অন্নপূর্ণা ব্যায়াম সমিতি। এবার ৯৩তম বর্ষে পা রাখছে হাওড়ার অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় এই পুজো। আর বরাবরের মতোই এবারের পুজোর মূল আকর্ষণ সেই নয়নাভিরাম সাবেকি মাতৃমূর্তি। অন্নপূর্ণার পুজো মানেই দর্শনার্থীদের কাছে এক অন্যরকম আবেগ। মণ্ডপে ঢুকতেই নজর কাড়ে দেবী দুর্গার অনিন্দ্যসুন্দর মাতৃমূর্তি। সনাতনী রীতির সেই প্রতিমার টানেই পুজোর চারদিন ব্যাঁটরা তো বটেই, হাওড়া ও কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ ভিড় জমান। পুজোর দিনগুলিতে লক্ষাধিক দর্শনার্থীর সমাগম হয় বলে পুজো কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে। ব্যাঁটরা অঞ্চলের অন্যতম বিগ বাজেটের পুজো হিসেবেও দীর্ঘদিনের পরিচিতি রয়েছে এই পুজোর। পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সৌগত ধাড়া বলেন, “আমরা থিমের পুজোয় বিশ্বাসী নই। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মণ্ডপসজ্জায় কিছুটা আধুনিকতার ছোঁয়া রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু প্রতিমার ক্ষেত্রে সাবেকি ঐতিহ্যই আমাদের মূল পরিচয়।” এবারও সেই ঐতিহ্য অটুট থাকছে। সাবেকি প্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপসজ্জায় থাকছে নতুনত্ব। একটি কাল্পনিক মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে এবারের মণ্ডপ। মা তারা ডেকরেটার্সের নির্মাণশিল্পী ও কর্মীদের হাত ধরে গড়ে উঠছে সেই মণ্ডপ। পুজোর দিনগুলিতে আলোকসজ্জায় সেজে উঠবে মণ্ডপ ও সংলগ্ন গোটা এলাকা। তবে অন্নপূর্ণার পুজোর আসল আকর্ষণ যে প্রতিমা, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। বহু বছর ধরে এই পুজোর মাতৃমূর্তি তৈরি করে আসছেন বাদল চন্দ্র পাল অ্যান্ড সন্স-এর শিল্পীরা। তাঁদের নিপুণ শিল্পকর্মেই পুজোর চারদিন প্রাণ পায় সেই ভুবনমোহিনী মাতৃমূর্তি। প্রতিমা দর্শনেই ভিড় করেন দূরদূরান্তের মানুষ। পুজোর পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাকেও সমান গুরুত্ব দেয় উদ্যোক্তারা। পুজো কমিটির কার্যকরী সভাপতি বাণীব্রত কাঁড়ার জানান, সপ্তমীর সকালে প্রায় ২০০ জন দুঃস্থ মহিলার হাতে নতুন শাড়ি তুলে দেওয়া হবে। আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগও অন্নপূর্ণা পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যে ক্লাবপ্রাঙ্গণে সারা বছর ক্যারাটে, ভলিবল, স্কাউট অ্যান্ড গাইড, তাইকোন্ডোর মতো বিভিন্ন ক্রীড়া অনুশীলন চলে, পুজোর দিনগুলিতে সেই চেনা প্রাঙ্গনই হয়ে ওঠে উৎসবের কেন্দ্র। পাশাপাশি থাকছে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অর্থাৎ ধর্মীয় আচার, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা—সব মিলিয়েই জমজমাট অন্নপূর্ণার দুর্গোৎসব। পুজোর নিরঞ্জন শোভাযাত্রাতেও থাকে বিশেষ আকর্ষণ। আলোকসজ্জা, ব্যান্ড এবং বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় প্রতিমা নিরঞ্জনের দৃশ্য দেখতে রাস্তার দু’ধারে ভিড় জমান অগণিত মানুষ। পুজোর উদ্বোধন থেকে বিসর্জন—প্রতিটি পর্বেই দর্শনার্থীদের মন জয় করতে প্রস্তুত ব্যাঁটরা অন্নপূর্ণা। হাওড়া স্টেশন থেকে কদমতলাগামী যে কোনও বাসে অন্নপূর্ণা স্টপেজে নামলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে এই ঐতিহ্যবাহী পুজো প্রাঙ্গণে।