*বকখালি সমুদ্র সৈকতে ‘সেবার রঙে দেশের সঙ্গে’! বালুকাবেলায় বর্ণময় রঙ্গোলি ও আলপনায় শিল্প-সংস্কৃতির মেলবন্ধন*
অমিত মণ্ডল,বকখালি:
সমুদ্রের নীল জলরাশি আর বিস্তীর্ণ বালুকাবেলায় রঙের ছোঁয়া! দেশব্যাপী আয়োজিত ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অঙ্গ হিসেবে এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ব্লকের বকখালি সমুদ্র সৈকতে অনুষ্ঠিত হল এক বিশেষ শিল্প ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি। ‘সেবার রঙে দেশের সঙ্গে’ এই ভাবনাকে পাথেয় করে মঙ্গলবার বকখালি সমুদ্র সৈকতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার এক অনন্য মেলবন্ধন দেখলেন সাধারণ মানুষজন।
১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে চলছে 'সেবা সংকল্প অভিযান'। তারই অঙ্গ হিসেবে ৬ অক্টোবরের এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এলাকার ছাত্রছাত্রী ও তরুণ শিল্পীরা। সমুদ্রসৈকতের বালির ওপর রঙিন আলপনা ও নিখুঁত রঙ্গোলি এঁকে নিজেদের শিল্পীসত্তা তুলে ধরেন তরুণরা। বালুর ওপর ফুটে ওঠা এই নানা নকশা ও শিল্পকর্মে ধরা পড়ে বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সৃজনশীলতার অনবদ্য রূপ।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাগর বিধানসভার বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল,পর্যটন বিভাগের টিডিও দক্ষিণ ২৪ পরগনা তনুশ্রী দাস,কো-অর্ডিনেশান আধিকারিক মলয় কুমার দাস। কাকদ্বীপের মহকুমা শাসক শুভঙ্কর ভট্টাচার্য, নামখানার বিডিও সুব্রত মল্লিক-সহ প্রশাসনিক পদস্থ আধিকারিক ও বিশিষ্টজনেরা।
২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার বৃহত্তর লক্ষ্যে ভারতের আধ্যাত্মিকতা, সংস্কৃতি ও ঐক্যের ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আয়োজকেরা।
তরুণ প্রজন্মের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল বলেন, "সেবা শুধু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াও এক ধরনের সেবা। দেশের উন্নয়নের বৃহত্তর লক্ষ্যে তরুণদের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।"
সেবা, সংস্কৃতি ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে সমুদ্রতটের এই রঙিন পরিবেশনা এক বিশেষ মাত্রা যোগ করল।