*স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে বকখালিতে পর্যটকের ঢল! দুর্যোগ উপেক্ষা করেই উত্তাল সমুদ্রে স্নান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটকদের সতর্ক করল প্রশাসন*
অমিত মণ্ডল, বকখালি:
টানা ছুটি পেয়েই ঘরের বাইরে বাঙালি! স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শনিবার সকাল থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বকখালিতে আছড়ে পড়ল পর্যটকদের ঢল। রবিবারও বকখালির সমুদ্র সৈকতে কার্যত তিল ধারণের জায়গা নেই। সৈকতে দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পাশাপাশি উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ে গা ভাসালেন পর্যটকরা।শনিবারের পাশাপাশি রবিবারও দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে নিম্নচাপের জেরে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। বকখালিও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পর্যটকদের দমাতে পারেনি; বরং বৃষ্টির মধ্যেই সমুদ্রস্নানে মেতে উঠেছেন তাঁরা।নিম্নচাপের জেরে বঙ্গোপসাগর ব্যাপকভাবে উত্তাল। তাই পর্যটকদের নিরাপত্তায় সৈকতে কড়া নজরদারি ছিল ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশ এবং সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে। মাইকিং করে পর্যটকদের কোমর সমান জলের গভীরে যেতে কড়াভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
বকখালিতে এবার পর্যটকদের চাপ এতটাই বেশি যে, প্রায় সমস্ত হোটেল ১০০ শতাংশ বুকিং হয়ে গিয়েছে। বহু পর্যটক রাত পর্যন্ত ঘুরেও কোনো হোটেলে রুম পাননি। বাধ্য হয়ে বকখালির মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িতেই অর্থের বিনিময়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন অনেকে।
হাওড়া থেকে বেড়াতে আসা শর্মিষ্ঠা ভট্টাচার্য নামের এক পর্যটক বলেন "বকখালিতে এই প্রথমবার এসেছি। বৃষ্টি থাকলেও আমরা যথেষ্ট আনন্দ করেছি। তবে পুরো জায়গা এখনও ঘোরা হয়ে ওঠেনি। আরও দু'দিন এখানে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে।"
দক্ষিণ কলকাতা থেকে আসা সায়ন ব্যানার্জি জানান, "আমরা এখানে এসে হোটেলে বুকিং করতে গেলে জানতে পারি সব হোটেল ভর্তি। এদিক-ওদিক ঘুরে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে স্থানীয় একটি বাড়িতে উঠেছি।"
স্থানীয় ব্যবসায়ী বিশ্বেশ্বর প্রামাণিক বলেন, "বহুদিন পর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এমন পর্যটকের ঢল দেখা গেল। অনেকদিন ব্যবসায় মন্দা চলছিল, কিন্তু এবার পর্যটকদের এই বিশাল উপস্থিতি আমাদের ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।"
সব মিলিয়ে দুর্যোগ এবং বৃষ্টিকে সঙ্গী করেই স্বাধীনতা দিবসের এই ছুটিতে জমজমাট ছিল বকখালির পর্যটন।
Namkhana, South Twenty Four Parganas | Aug 16, 2026