*জরাজীর্ণ মধুসূদনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়।পরিকাঠামোর বেহাল দশার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পড়াশোনা করছে ছাত্রছাত্রীরা*
Bengal icon news ডিজিটাল ইন্ডিয়া আর শিক্ষার প্রসারের নানা বড় বড় দাবির মাঝেও, গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটা আরও একবার সামনে এল। মগরাহাট থানার অন্তর্গত মধুসূদনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়—যেখানে পড়াশোনা শুধুই শিক্ষার নয়, বরং এক নিত্যদিনের লড়াই! এক চরম আতঙ্কের নাম! জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, ভেঙে পড়া ছাদ, আর যে কোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে ১৬৬ জন পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ গড়ার কাজ। কিন্তু কোনো হেলদোল নেই প্রশাসনের!
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট থানার প্রত্যন্ত এলাকা মধুসূদনপুর। এই এলাকার মধুসূদনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে পড়াশোনা করে ১৬৬ জন ছাত্রছাত্রী। তাদের সামলাতে এবং বিদ্যাদানে নিয়োজিত আছেন মাত্র ৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। কিন্তু স্কুলের যা বর্তমান অবস্থা, তাতে পাঠদানের থেকে জীবন বাঁচানোর চিন্তাই যেন বেশি কাজ করে শিক্ষক থেকে অভিভাবকদের মনে।
স্কুলের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে রয়েছে বিপদের ছাপ। ছাদ থেকে প্রতিনিয়ত খসে পড়ছে পলেস্তারা, বর্ষাকালে সিলিং চুইয়ে পড়ে ঝরঝর করে জল। নেই কোনো উপযুক্ত উন্নত পরিকাঠামো। সরকারের পক্ষ থেকে মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা তো রয়েছে, কিন্তু সেই খাবার একটু শান্তিতে বসে খাওয়ার মতো ন্যূনতম কোনো জায়গা বা উপযুক্ত পরিবেশ পর্যন্ত নেই এ স্কুলে। এর ওপর এলাকার যোগাযোগের অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়, ফলে চরম সমস্যায় পড়তে হয় সবাইকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক এলাকা হওয়ার সুযোগেই স্কুলটির ওপর কোনো নজর নেই সরকারের। একাধিকবার প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো সত্ত্বেও মিলনি কোনো সমাধান, মেলেনি কোনো স্থায়ী আশ্বাস। ফলে এক প্রকার নিরুপায় হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের সন্তানদের এই আতঙ্কের বিদ্যালয়ে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন অভিভাবকরা।
এমনকি পরিস্থিতি এতটাই আশঙ্কাজনক যে, স্কুলের শিক্ষকরাও এখন নিরুপায়। ক্যামেরার সামনে সরকারের কাছে হাত জোড় করে আকুল আবেদন জানাচ্ছেন—এই খুদে শিশুদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে অন্তত একবার যেন নজর দেওয়া হয় মধুসূদনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দিকে।
শিক্ষা প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। কিন্তু জরাজীর্ণ ছাদের নিচে আতঙ্কের মধ্যে প্রহর গোনাটা কি সত্যিই ওদের প্রাপ্য? প্রশাসনিক উদাসীনতার মাশুল কি এভাবেই দিতে হবে ১৬৬ জন নিষ্পাপ শিশুকে? এখন দেখার, এই খবরের পর আদৌ ঘুম ভাঙবে কি প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তরের, নাকি কোনো বড়সড় দুর্ঘটনার অপেক্ষাতেই দিন গুনবে মধুসূদনপুর?
Namkhana, South Twenty Four Parganas | Jul 26, 2026