*টানা বৃষ্টিতে ভাসল ফ্রেজারগঞ্জের অমরাবতী! জলের তলায় ৫০টি বাড়ি, ঘরছাড়া বহু পরিবার*
অমিত মণ্ডল, নামখানা:
টানা তিনদিনের অতিভারী বৃষ্টির জেরে কার্যত জলের তলায় চলে গেল নামখানার ফ্রেজারগঞ্জের অমরাবতী গ্রাম! বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার জেরে বৃহস্পতি ও শুক্রবারের বৃষ্টিতে গ্রামের অন্তত ৫০টি বাড়িতে হাঁটু সমান জল ঢুকে গিয়েছে। ভিটেমাটি ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে ইতিমধ্যেই বহু পরিবার স্থানীয় স্কুল ও হোটেলে আশ্রয় নিয়েছেন। সব হারিয়ে এখন চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটছে অমরাবতীর বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের। শুধুমাত্র ফ্রেজারগঞ্জের অমরাবতী গ্রাম নয়,পাশে থাকা লক্ষ্মীপুর, বিজয় পাটি গ্রামের কিছু কিছু বাড়িতে জল ঢুকেছে। তবে সব থেকে ভয়াবহ পরিস্থিতি অমরাবতী গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবার।হাঁটু সমান জল পেরিয়ে, কোনোরকমে রান্নার সরঞ্জাম এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে অমরাবতীর প্রায় ১০টি পরিবার বাড়ি ছেড়েছেন। তবে একমাত্র সম্বলটুকু ছেড়ে এখনও অনেকেই জলমগ্ন বাড়িতেই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।গ্রামের কয়েকশো বিঘা কৃষিজমি এখন সম্পূর্ণ জলের তলায়। নষ্ট হয়ে গিয়েছে ধানের বীজতলা। পাশাপাশি এলাকার সমস্ত পুকুর ভেসে গিয়ে মাছও নষ্ট হয়ে গিয়েছে। জলমগ্ন ঘরবাড়িগুলোতে এখন সাপ এবং ব্যাঙের প্রবল উপদ্রব শুরু হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের আতঙ্ক আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই চরম দুর্দশার জন্য দীর্ঘদিনের বেহাল নিকাশি ব্যবস্থাকেই দায়ী করছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, একমাত্র নিকাশি খালটি সংস্কার না হওয়ার ফলেই এই জমা জল বেরোতে অন্তত দশ দিনেরও বেশি সময় লেগে যাবে। সবচেয়ে বড় আক্ষেপের বিষয় হলো, চরম এই বিপদের দিনেও এখনও পর্যন্ত কোনো স্থানীয় জনপ্রতিনিধি দুর্গত মানুষদের পাশে এসে দাঁড়াননি।
দুর্গত গ্রামবাসীদের এখন একটাই কাতর আর্জি অবিলম্বে গ্রামের এই নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক করা হোক, না হলে আগামী দিনে গোটা অমরাবতী গ্রামটাই জলের তলায় চলে যাবে।