কয়েক ঘণ্টায় ৫০ বাড়ি গঙ্গায়, রতুয়ায় ভাঙনের আতঙ্ক,ভাঙন আতঙ্কে ঘরছাড়া বহু পরিবার, ঘটনাস্থলে প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী
Bengal icon news মালদহ :মালদার রতুয়া-১ নম্বর ব্লকের মহানন্দটোলা এলাকায় আচমকা শুরু হয়েছে ভয়াবহ গঙ্গাভাঙন। মাত্র কয়েক ঘণ্টার তীব্র ভাঙনে মহানন্দটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের জিতুটোলা গ্রামের প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি বসতবাড়ি গঙ্গার গ্রাসে চলে গিয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। চোখের সামনে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও সর্বস্ব নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় কার্যত সর্বহারা বহু পরিবার। ভাঙনের আতঙ্কে ইতিমধ্যেই বহু বাসিন্দা ঘরছাড়া হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে মালদায় গঙ্গার জলস্তর কমছিল। রবিবার সকালে জিতুটোলা এলাকায় আচমকাই নদীর পাড়ে ফাটল দেখা দিতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই ফাটল ক্রমশ বড় আকার ধারণ করে এবং একের পর এক বসতবাড়ি নদীর দিকে ধসে পড়তে থাকে। পরিস্থিতি এতটাই দ্রুত বদলাতে থাকে যে, অনেক পরিবার ঘর থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী বের করারও যথেষ্ট সময় পাননি।ভাঙনের তীব্রতা দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বাসিন্দারা ঘরের আসবাবপত্র, নথিপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। চোখের সামনে বছরের পর বছর ধরে তৈরি করা বসতবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বহু মানুষ।ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ব্লক প্রশাসন ও পুলিশ। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও। তাঁরা ভাঙনপ্রবণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গঙ্গার জল কমার সঙ্গে সঙ্গেই আচমকা ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীভাঙনের আশঙ্কা আগে থেকেই থাকলেও এত দ্রুত গতিতে ভাঙন তাঁরা আগে দেখেননি। তাঁদের দাবি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। এখনও ভাঙন অব্যাহত থাকায় নতুন করে আরও বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।ভাঙন দুর্গতদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের সমস্যা থাকলেও স্থায়ী প্রতিরোধের ব্যবস্থা না হওয়ায় বারবার বিপদের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। আচমকা বসতবাড়ি হারিয়ে সরকারি সাহায্যের আশায় দিন কাটছে বহু পরিবারের। সরকারি উদাসীনতার অভিযোগ তুলে ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন দুর্গতরা।প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। দুর্গত পরিবারগুলিকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ভাঙন পুরোপুরি না থামলে নতুন করে কতগুলি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে এখন জিতুটোলা গ্রামের বহু পরিবার।