সালেমার মেন্দি চৌমুনিতে বিভিন্ন দাবি সামনে রেখে সাম্প্রতিক রাস্তা অবরোধকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অবরোধকারীদের পক্ষ থেকে রাস্তা, জল ও বিদ্যুতের সমস্যা তুলে ধরা হলেও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এর নেপথ্যে ফুটব্রিজের টেন্ডার বাতিল এবং সেতুটি কোন দিক দিয়ে নির্মাণ করা হবে, তা নিয়ে বিরোধই ছিল অন্যতম প্রধান বিষয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভরত চৌধুরী এলাকার প্রায় ৫০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট পথ দিয়ে যাতায়াত করে। তাঁদের বক্তব্য, ওই দিক দিয়ে ফুটব্রিজ নির্মাণ করা হলে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক মানুষের যাতায়াতে সুবিধা হবে। এই বৃহত্তর জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করেই সুরমার বিধায়িকা ও বিএসি চেয়ারম্যান অবস্থান নিয়েছেন
অন্যদিকে, অবরোধকারীদের পক্ষ থেকে যে স্থানে ফুটব্রিজ নির্মাণের দাবি উঠেছে, সেখানে তুলনামূলকভাবে একটি পরিবারের জমি বা বসতবাড়ি রয়েছে বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—সেতুর অবস্থান নির্ধারণ কি সত্যিই বৃহত্তর জনস্বার্থে, নাকি নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের সুবিধাকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে?
এর পাশাপাশি টেন্ডারের কাজ ও আর্থিক সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, সরকারি প্রকল্পের কাজ পাওয়া বা সেই কাজের মাধ্যমে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা অর্জনের স্বার্থ থেকেই কি ফুটব্রিজের অবস্থান নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে
অবরোধের সময় বিধায়িকা ও বিএসি চেয়ারম্যানকে সরাসরি দায়ী করে যে বক্তব্য সামনে এসেছিল, তারও পাল্টা জবাব দিয়েছেন ৫০ পরিবারের একাংশ। তাঁদের দাবি, ফুটব্রিজের টেন্ডার বাতিলের জন্য বিধায়িকা নিজে কোথাও স্বাক্ষর করেছেন—এমন কোনো নথি তাঁরা দেখেননি। তাঁদের আরও বক্তব্য, জনগণের দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা বিবেচনা করেই ৫০টি পরিবারের যাতায়াতের দিকটিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই শুধুমাত্র টেন্ডার বাতিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধায়িকা ও বিএসি চেয়ারম্যানকে সরাসরি দায়ী করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, প্রকৃত বিষয় আড়াল করে বিধায়িকা ও বিএসি চেয়ারম্যানকে ব্যক্তিগতভাবে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। তাঁদের দাবি, দু’জনই যদি বৃহত্তর জনগণের যাতায়াতের সুবিধা ও সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারের কথা বিবেচনা করে সিদ্ধান্তের পক্ষে থাকেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগেরও প্রমাণ থাকা প্রয়োজন।
এখন প্রশ্ন একটাই—মেন্দি চৌমুনির রাস্তা অবরোধ কি সত্যিই রাস্তা, জল ও বিদ্যুতের সমস্যার আন্দোলন ছিল, নাকি ফুটব্রিজের টেন্ডার ও অবস্থান নিয়ে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের বিরোধই ছিল এর নেপথ্যে? অভিযোগ সত্য হলে তা তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসা যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ছড়ানো অভিযোগেরও জবাবদিহি হওয়া দরকার।
কারণ সরকারি অর্থে নির্মিত ফুটব্রিজ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়—সর্বাধিক সংখ্যক সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য হওয়াই প্রকৃত জনস্বার্থ। আর সেই জনস্বার্থের প্রশ্নেই এখন মেন্দি চৌমনি অবরোধকে ঘিরে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন।
Amarpur, Gomati | Aug 25, 2026