পুজোর চাঁদার নামে ‘দাদাগিরি’! মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি উড়িয়ে ধর্মনগরে পণ্যাবাহী গাড়িতে তাণ্ডব, চালককে বেধড়ক মারধর
নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর: প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি, মুখ্যমন্ত্রীর লাল চোখ—কোনো কিছুকেই যে তোয়াক্কা করছে না একদল চাঁদা-বাজ, তা ফের একবার প্রমাণ হয়ে গেল ধর্মনগরে। চাঁদা না দেওয়ায় গভীর রাতে পথ আটকে পণ্যবাহী গাড়িতে ভাঙচুর এবং চালককে নৃশংসভাবে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠল স্থানীয় এক ক্লাবের বিরুদ্ধে।
ঘটনা ধর্মনগরের চন্দ্রপুর এলাকায়। সূত্রের খবর, অসমের নগাঁও থেকে কাঁচা লঙ্কা বোঝাই করে আগরতলার গুল বাজারের দিকে যাচ্ছিল একটি বোলেরো পিকআপ ভ্যান (নম্বর: AS02EC 4818)। অভিযোগ, রাত আনুমানিক দেড়টা নাগাদ চন্দ্রপুর এলাকায় গাড়িটির পথ আটকায় স্থানীয় একটি ক্লাবের কয়েকজন সদস্য।
গাড়ির চালক ফারুক হোসেনের দাবি, গাড়ি থামিয়েই তাঁর কাছ থেকে এককালীন ৫ হাজার টাকা পুজো চাঁদা দাবি করা হয়। অন্যায় দাবির প্রতিবাদ জানিয়ে চালক টাকা দিতে অস্বীকার করতেই শুরু হয় তাণ্ডব। অভিযোগ, চালককে জোরপূর্বক অন্য একটি নির্জন রাস্তায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ক্লাবের সদস্যরা। প্রতিবাদ করলে শুরু হয় তীব্র বচসা, যা মুহূর্তে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অভিযোগ, চাঁদা-বাজরা চালক ফারুক হোসেনের ওপর চড়াও হয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে এবং বোলেরো গাড়িটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
শুধু মারধরই নয়, দীর্ঘ সময় ধরে লঙ্কা বোঝাই গাড়িটিকে আটকে রাখা হয়। ফলে গাড়িতে থাকা বিপুল পরিমাণ কাঁচা লঙ্কা পচে নষ্ট হতে বসেছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত চালক। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ধর্মনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচার চেয়েছেন চালক ফারুক হোসেন।
প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে:
রাজ্য জুড়ে প্রশাসনের তরফে বারবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—পুজোর চাঁদার নামে রাস্তায় গাড়ি আটকে তোলাবাজি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। খোদ মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু ধর্মনগরের এই ঘটনা ফের একবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল—প্রশাসনের এই কড়া বার্তা কি শুধুই খাতায়-কলমে সীমাবদ্ধ? বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে কি আদৌ এর প্রয়োগ আছে?
অভিযোগ সত্যি হলে এই দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কী আইনি পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার। সেই সঙ্গে আন্তঃরাজ্য পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের নিরাপত্তার দাবিতে সরব হয়েছেন ব্যবসায়ী মহল। আপাতত নজর ধর্মনগর থানার তদন্ত এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।