
বছর শেষে প্রকৃতির মহাতাণ্ডবের আশঙ্কা? অক্টোবর-ডিসেম্বরে ৩ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস ISRO-র
বছরের শেষ তিন মাসে উত্তর ভারত মহাসাগরে বড়সড় অশনি সংকেত। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO-র অধীন স্পেস অ্যাপ্লিকেশনস সেন্টারের (SAC) পূর্বাভাস বলছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় তিনটি তীব্র ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর ISRO-র Meteorological & Oceanographic Satellite Data Archival Centre (MOSDAC) তাদের ওয়েবসাইটে এই মরসুমি পূর্বাভাসের একটি গ্রাফ প্রকাশ করেছে। সেখানেই উঠে এসেছে এই আশঙ্কার কথা।
কী বলছে ISRO-র পূর্বাভাস?
MOSDAC-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্ষা পরবর্তী মরশুমে উত্তর ভারত মহাসাগরে তিনটি ট্রপিক্যাল সাইক্লোন তৈরি হতে পারে। এই তিনটি ঘূর্ণিঝড়ের সম্মিলিত ধ্বংসক্ষমতা বা Power Dissipation Index (PDI) হতে পারে প্রায় $13.06 \times 10^6$ knots³।
এই পরিসংখ্যানটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। হিসেব বলছে, এই শক্তি গত ৪৪ বছরের গড়ের তুলনায় প্রায় ৮৩% বেশি। অর্থাৎ ১৯৮২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত উত্তর ভারত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের গড় শক্তির তুলনায় এবারের সম্ভাব্য ঝড়গুলো অনেক বেশি শক্তিশালী হতে পারে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৩০ বছরে এই অঞ্চলে মোট ২৬৬টি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় নথিভুক্ত হয়েছে। যদিও সবগুলো ভারতের উপকূলে আছড়ে পড়েনি।
এটি কি চূড়ান্ত সতর্কতা?
না। MOSDAC নিজেই জানিয়েছে, এটি কোনও নির্দিষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কতা নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি মরসুমি অনুমান।
গত কয়েক দশকের জলবায়ু, বায়ুমণ্ডলীয় এবং মহাসাগরীয় তথ্য বিশ্লেষণ করে এই মডেল তৈরি করা হয়েছে। এর থেকে বোঝা যায়, এই মরশুমে কতগুলো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে এবং তাদের মোট শক্তি কত হতে পারে, কিন্তু কোন ঘূর্ণিঝড় কোথায় তৈরি হবে, তার গতিপথ কী হবে বা কোন উপকূলে আঘাত হানবে - তা এই পূর্বাভাস থেকে বলা সম্ভব নয়।
কোথায় নজর রাখতে হবে?
ISRO-র গবেষণা অনুযায়ী, অক্টোবর-নভেম্বর মাস বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির জন্য সবচেয়ে অনুকূল সময়। তাই অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।
শুধু তাই নয়, আবহাওয়াবিদদের মতে, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর ও দক্ষিণ চিন সাগরেও নজর রাখা জরুরি। কারণ ওই অঞ্চলে তৈরি হওয়া কোনও টাইফুনের অবশিষ্টাংশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে আন্দামান সাগরে প্রবেশ করতে পারে। যদিও এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি টাইফুনই ভারতের দিকে আসবে, তার গতিপথ নির্ভর করে বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাতাসের গতিবেগ দিয়েই ক্ষয়ক্ষতি বিচার করা যায় না। আম্পান বা ইয়াসের মতো অতিবৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসও বড় কারণ। বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু উপকূল এবং আরব সাগরে তৈরি হলে পশ্চিম উপকূল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে এখনই কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি। এটি দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতির জন্য একটি আগাম বৈজ্ঞানিক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছে ISRO।