
নন্দীগ্রাম ছাড়তে চেয়ে বেণুগোপালকে ফোন মমতার, প্রস্তাব খারিজ কংগ্রেসের
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচনের আগে বঙ্গ রাজনীতিতে জোট-জল্পনা তুঙ্গে। দুই কেন্দ্রে মনোনয়ন জমা শুরু হতেই কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের প্রস্তাব দিলেন কালীঘাট তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূত্রের খবর, এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপালকে ফোন করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। ফোনে তিনি প্রস্তাব দেন, নন্দীগ্রাম আসন কংগ্রেসকে ছেড়ে দিতে রাজি কালীঘাট তৃণমূল। বিনিময়ে রেজিনগর কেন্দ্রে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থীকে সমর্থন করুক কংগ্রেস। প্রয়োজনে নন্দীগ্রামে নিজেদের প্রার্থীও তুলে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
প্রস্তাব নাকচ কংগ্রেসের
তবে মমতার এই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে কংগ্রেস হাইকমান্ড। কংগ্রেসের অন্দরের খবর, অতীতে জোট ভেঙে বেরিয়ে যাওয়া এবং রাজ্যে তৃণমূলের শাসনকালে কংগ্রেস কর্মীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগের কারণেই এই সিদ্ধান্ত।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, জোট যদি করতেই হয়, তাহলে উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুটি আসনেই কংগ্রেসকে সমর্থন করুক কালীঘাট তৃণমূল। তাহলেই ভবিষ্যতে জোটের রাস্তা খোলা থাকবে।
চতুর্মুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত
আগামী ৬ অক্টোবর দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই দুই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করেছে - নন্দীগ্রামে মিলন প্রধান এবং রেজিনগরে মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি। কাফি সোমবারই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
অন্যদিকে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরী। একইসঙ্গে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলও প্রার্থী দিয়েছে - নন্দীগ্রামে এহতাশামুল হক এবং রেজিনগরে সফিউজ্জামান শেখ। ফলে দুই কেন্দ্রেই তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে প্রতীক নিয়ে লড়াই স্পষ্ট।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নন্দীগ্রামে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-র নাম ২০১৪ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়ানোয় স্থানীয় স্তরে ক্ষোভ রয়েছে। সেই কারণেই কি প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যাকফুটে গিয়ে মমতা কংগ্রেসের দ্বারস্থ হলেন, সেই প্রশ্নও উঠছে।