
সিবিআই মামলায় গ্রেফতার অভিযুক্ত রোহান শেখ ওরফে কিসমতের জামিন খারিজ, জেল হেফাজতেই বিচার প্রক্রিয়া
বর্ধমান, ২৫ জুন: সিবিআইয়ের তদন্তাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় গ্রেফতার অভিযুক্ত রোহান শেখ ওরফে কিসমত শেখ এর জামিনের আবেদন খারিজ করল বর্ধমানের অতিরিক্ত দায়রা জজের চতুর্থ আদালত। গত ২৪ জুন ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত দায়রা বিচারক শ্রী রাজেশ তামাং এই নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার তৃতীয় সম্পূরক চার্জশিটে রোহান শেখ কে পলাতক অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ এপ্রিল আদালতের নির্দেশে তাকে পলাতক ঘোষণা করা হয়। পরে সিবিআইয়ের বিশেষ অপরাধ শাখা (এসসিবি), কলকাতা তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করে।
জামিনের আবেদনে অভিযুক্তের আইনজীবী অমিত লাহা ও সম্রাট ব্যানার্জি দাবি করেন, গ্রেফতারি মেমোতে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, গ্রেফতারের স্থান হিসেবে সিবিআই অফিসের উল্লেখ থাকলেও অভিযুক্ত সেখানে আত্মসমর্পণ করেননি। এছাড়া গ্রেফতারের কারণ-সংক্রান্ত নথিতেও বিভ্রান্তিকর তথ্য রয়েছে। নতুন ফৌজদারি আইন অনুযায়ী গ্রেফতারের নোটিশ প্রদান করা হয়নি বলেও দাবি করা হয়। অপরাধ সংঘটনের সময় অভিযুক্তের বয়স মাত্র ১৮ বছর ছিল বলেও জামিনের পক্ষে সওয়াল করেন তাঁরা।
প্রতিরক্ষার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ৪৮ ধারায় গ্রেফতারের সময় স্থান, তারিখ ও সময় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট গ্রেফতারি নথিতে সেই তথ্য যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়নি বলে আদালতে দাবি করা হয় এবং এই বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিস্তর আইনি বিতর্ক হয়।
অন্যদিকে সিবিআইয়ের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতে জানান, গ্রেফতারি মেমোর কিছু অংশে অনিচ্ছাকৃত মুদ্রণজনিত ত্রুটি থাকলেও গ্রেফতারের কারণ ও পুরো প্রক্রিয়া আইনসম্মতভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। অভিযুক্তের আত্মীয়দেরও গ্রেফতারের বিষয়ে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুতর প্রকৃতির এবং অভিযুক্ত দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। এছাড়া রোহান শেখের বাবা লালন শেখ রামপুরহাটে সিবিআই হেফাজতে তার মৃত্যু হয়েছিল এবং লালনের স্ত্রী সি বি আই এর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন!
উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, গ্রেফতারের ক্ষেত্রে এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ত্রুটি পাওয়া যায়নি, যা জামিন দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। আদালত আরও উল্লেখ করে, মামলায় ইতিমধ্যেই অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে এবং অন্যান্য ২৩ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মামলায় মোট ৪১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ বাকি রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্তকে জামিন দেওয়ার উপযুক্ত কারণ নেই বলে আদালত তার আবেদন খারিজ করে এবং বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন তাকে জেল হেফাজতেই রাখার নির্দেশ দেয়। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ৩০ জুন।
#NewsUpdate #facebookviral #Rampurhat #CrimeNews
Birbhum District Police Ministry of Home Affairs, Government of India Bengal Message- বেঙ্গল মেসেজ Birbhum District Administration