টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে এবং টিউশনির টাকায় কেনা নতুন জামা, বিতরণ করলেন স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবার - বেহালায় বিরল মানবিক ছবি
একদিকে টিফিনের পয়সা বাঁচানো এক গ্রামের ছেলের স্বপ্ন, অন্যদিকে স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারের হাতের ছোঁয়া। দুইয়ে মিলে বেহালার নবপল্লীতে তৈরি হলো এক আবেগঘন মুহূর্ত।
গ্রামের ছেলে আলাপন ব্যানার্জি। নিজের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে, টিউশন পড়িয়ে জমানো টাকায় কিনেছে একগুচ্ছ নতুন বস্ত্র। উদ্দেশ্য, পুজোর আগে গরিব, দুঃস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটানো।
আর সেই নতুন বস্ত্র বিতরণের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হলো স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারের সদস্যদের হাতে। নবপল্লী অধিবাসীবৃন্দের দুর্গা পুজো মণ্ডপ থেকেই আয়োজিত হলো এই মহতী অনুষ্ঠান।
ইতিহাস আর বর্তমানের মেলবন্ধন
আজ সন্ধ্যায় নবপল্লী ক্লাবের মণ্ডপে ছিল এক অন্যরকম দৃশ্য। মঞ্চে উপস্থিত স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা। তাদের হাত ধরেই একে একে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হলো এলাকার দুঃস্থ মানুষদের হাতে।
একদিকে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করা পরিবারের সম্মান, অন্যদিকে গ্রামের ছেলের মানবিক উদ্যোগ - দুইয়ে মিলে পুজোর আগেই যেন এক অন্যরকম উৎসব শুরু হলো নবপল্লীতে।
আলাপন ব্যানার্জি বলেন, "আমি শুধু জামা জোগাড় করেছি, কিন্তু এই জামা যখন স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারের হাত দিয়ে দেওয়া হলো, তখন এর মর্যাদা আরও বেড়ে গেল। এটা আমার জীবনের সেরা পুজো।"
ক্লাবের ব্যতিক্রমী ভাবনা
নবপল্লী অধিবাসীবৃন্দের পুজো কমিটি এবার শুরু থেকেই চমক দিচ্ছে। প্রথমে স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারদের দিয়ে পুজোর উদ্বোধন, তারপর তাদের হাত দিয়েই বস্ত্র বিতরণ।
ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানান, "আমরা চেয়েছিলাম এমন কিছু করতে যা সবাইকে ছুঁয়ে যাবে। আলাপনের মতো ছেলের টাকায় কেনা জামা যখন সংগ্রামী পরিবারের হাত দিয়ে গরিব মানুষ পাচ্ছেন, তখন তিনটি প্রজন্ম একসাথে মিলছে - অতীতের ত্যাগ, বর্তমানের মানবিকতা আর ভবিষ্যতের আশা।"
অনুষ্ঠানে উপস্থিত দুঃস্থ মানুষদের চোখে ছিল জল। এক বৃদ্ধা বলেন, "পুজোয় নতুন কাপড় পাব ভাবিনি। তাও আবার যারা দেশ স্বাধীন করেছেন তাদের পরিবারের হাত থেকে।"
যখন সবাই গ্ল্যামারের পিছনে ছুটছে, তখন নবপল্লী ক্লাব, গ্রামের ছেলে আলাপন আর স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবাররা মিলে বুঝিয়ে দিল - পুজো মানেই শুধু আলো আর থিম নয়, পুজো মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।