ত্রাণ তহবিলে দানের পর এবার ১০০০ মানুষকে প্রসাদ বিতরণ, মানবিকতার নজির বেহালার গণেশ পুজো কমিটির
বেহালা, কলকাতা:উৎসব মানে শুধু আলো আর আড়ম্বর নয়, উৎসব মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সেই বার্তাই আবারও দিল বেহালার মদনমোহন তলার অখুরথ মদনমোহন তলা গণেশ পূজা কমিটি। মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ৫১ হাজার ১ টাকা দানের পর এবার গণেশ পুজো উপলক্ষে ১০০০ সাধারণ মানুষের জন্য মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন করল এই পুজো কমিটি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেহালা মদনমোহন তলা মন্দির প্রাঙ্গণে এই প্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পুজো কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে প্রতি বছরই তারা পুজোর আয়োজন করেন। কিন্তু এবারের পুজো ছিল একটু অন্যরকম। শুধু পুজো নয়, সমাজসেবাকেও তারা পুজোর অঙ্গ করে তুলেছেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেহালা পূর্বের বিধায়ক শংকর শিকদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী, পুজো কমিটির সভাপতি, সম্পাদক সহ অন্যান্য সদস্যরা।
বিধায়ক শংকর শিকদার এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, "অখুরথ মদনমোহন তলা গণেশ পূজা কমিটি যেভাবে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করেছে এবং আজ ১০০০ মানুষকে প্রসাদ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এটাই আমাদের বাংলার সংস্কৃতি। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সবসময় বলেন, মানুষের পাশে থাকো, মানুষের সাথে থাকো। এই পুজো কমিটি সেই কাজটাই করে দেখালো।"
বক্তব্যের পর বিধায়ক নিজে হাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করেন। তিনি শুধু মঞ্চেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। সাধারণ মানুষের ভিড়ের মধ্যে নেমে আসেন, তাদের সঙ্গে মিশে যান, কথা বলেন। এলাকার বয়স্ক মানুষদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, ছোটদের মাথায় হাত বুলিয়ে আশীর্বাদ করেন।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে নজরকাড়া মুহূর্ত ছিল সাধারণ মানুষের আবদার মেটানো। প্রসাদ নিতে আসা বহু মানুষ বিধায়কের সঙ্গে ছবি তুলতে চান। কেউ সেলফি, কেউ পরিবারের সঙ্গে গ্রুপ ফটো। বিধায়ক শংকর শিকদার একটিও আবদার ফেরাননি। হাসিমুখে সকলের সঙ্গে ছবি তোলেন, তাদের কথা শোনেন। তার এই মাটির কাছাকাছি থাকার মানসিকতায় খুশি এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা গীতা দাস বলেন, "প্রতিবছর পুজো হয়, কিন্তু এবারের মতো আয়োজন আগে দেখিনি। ১০০০ লোককে খাওয়ানো মুখের কথা নয়। আর বিধায়ক নিজে এসে আমাদের সঙ্গে কথা বললেন, ছবি তুললেন, খুব ভালো লাগলো।"
পুজো কমিটির সম্পাদক জানান, "আমরা বিশ্বাস করি বাপ্পা সবার। তাই বাপ্পার প্রসাদ সবার মধ্যে ভাগ করে নিতে চেয়েছি। মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান ছিল আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা, আর এই প্রসাদ বিতরণ হল ভক্তির সঙ্গে সেবার মেলবন্ধন। আগামী দিনেও আমরা এই ধরনের কাজ চালিয়ে যাব।"
প্রায় ১০০০ মানুষ লাইন দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে প্রসাদ গ্রহণ করেন। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়, যা পুজো কমিটির সুন্দর ব্যবস্থাপনারই প্রমাণ।
উৎসবের মাঝে এমন মানবিক উদ্যোগ যে সমাজে এক ইতিবাচক বার্তা দেয়, তা বলাই বাহুল্য। অখুরথ মদনমোহন তলা গণেশ পূজা কমিটি দেখিয়ে দিল, পুজো শুধু উপাসনা নয়, পুজো হল মানুষের সাথে মানুষের মিলন।