*জোড়া ফলায় ফুঁসছে সমুদ্র! মৌসুনিতে ২০০ মিটার বাঁধে ধস, ফ্রেজারগঞ্জে পরিদর্শনে বিধায়ক সুমন্ত*
অমিত মণ্ডল, নামখানা:
নিম্নচাপের ভ্রুকুটি আর পূর্ণিমার ভরা কোটালের জেরে ফের নদীভাঙনের কবলে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ উপকূল। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের দাপটে কোথাও নদী বাঁধে ধস নেমেছে, আবার কোথাও আস্ত কংক্রিটের বোল্ডার ধসে গিয়ে তৈরি হয়েছে গ্রামে জল ঢোকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভাঙন পরিদর্শনে শুক্রবার সেচ দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে ফ্রেজারগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখলেন সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল।
নিম্নচাপ ও পূর্ণিমার কোটালের জেরে নামখানা ব্লকের মৌসুনি দ্বীপের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। বালিয়াড়া সল্টঘেরি এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার নদী বাঁধ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। অন্যদিকে, পয়লা ঘেরি এলাকায় প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে। পূর্ণিমার কোটালের জেরে আরও জল বাড়ার পূর্বাভাস থাকায় প্লাবিত হওয়ার আতঙ্কে কাঁপছেন এই এলাকার মানুষ।
ফ্রেজারগঞ্জের অমরাবতী গ্রামের হাতি কর্নারের কাছে কংক্রিটের বোল্ডারে ধস নামায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গ্রামবাসীদের মধ্যে। উত্তাল ঢেউ যেকোনো মুহূর্তে গ্রামে ঢুকতে পারে বলে আশঙ্কা। এর পাশাপাশি সাগরের সুমতি নগর, মহিষমারি-সহ বিভিন্ন দুর্বল নদী বাঁধগুলিরও কিছু কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ফ্রেজারগঞ্জের হাতি কর্নার এবং বিজয়বাটি গ্রামের কালিস্থানের দুর্বল নদী বাঁধগুলি পরিদর্শন করেন সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল। সঙ্গে ছিলেন সেচ দপ্তরের উচ্চপদস্থ এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়াররা।
পরিদর্শন শেষে বিধায়ক গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করে জানান, যে সমস্ত নদী বাঁধগুলি আংশিক ভেঙে গিয়েছে, সেগুলিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি যে বাঁধগুলি দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, বড় বিপদের আগেই সেগুলি দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।