সরকারি বাসে পুজো পরিক্রমা, খুদে পড়ুয়াদের মুখে হাসি ফোটাল বাঁকুড়া জেলা পুলিশ ও শালতোড়া থানা।
পুজো মানেই আনন্দ, পুজো মানেই নতুন জামাকাপড়, আর পুজো মানেই রঙিন আলোর মাঝে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঠাকুর দেখার এক অনাবিল আনন্দ। কিন্তু অনেক সময় ইচ্ছা থাকলেও সকলের পক্ষে বড় বড় পুজো মণ্ডপ ঘুরে দেখা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের কাছে সেই আনন্দ যেন অধরাই থেকে যায়।
আর সেই খুদে পড়ুয়াদের মুখে হাসি ফোটাতেই এবার এক মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করল বাঁকুড়া জেলা পুলিশ। আর সেই উদ্যোগকে সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত করল শালতোড়া থানা।
বাঁকুড়া জেলার শালতোড়ায় দেখা গেল এক অন্যরকম ছবি। সরকারি বাসে করে এলাকার বিভিন্ন পাড়া থেকে খুদে ছেলেমেয়েদের নিয়ে যাওয়া হল বাঁকুড়ার বড় বড় দুর্গাপুজো মণ্ডপ পরিদর্শনে। চোখের সামনে রঙিন আলোকসজ্জা, মণ্ডপের বাহারি সাজসজ্জা আর দেবী দুর্গার প্রতিমা—সব মিলিয়ে খুদে পড়ুয়াদের কাছে এই পুজো পরিক্রমা হয়ে উঠল এক আনন্দময় অভিজ্ঞতা।
বাসে চেপে একের পর এক পুজো মণ্ডপ ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি ছোট ছোট পড়ুয়ারা। তাদের কাছে এই দিনটি শুধু ঠাকুর দেখার দিন নয়, বরং আনন্দ, উৎসাহ আর নতুন অভিজ্ঞতায় ভরে ওঠার এক বিশেষ মুহূর্ত।
তবে এই উদ্যোগের গুরুত্ব শুধুমাত্র পুজো পরিক্রমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শিশুদের আনন্দের অংশীদার হওয়া, তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে বার্তা এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে উঠে এল, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
আমরা সাধারণত পুলিশকে দেখি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে, অপরাধ দমন করতে কিংবা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। কিন্তু তার পাশাপাশি পুলিশ যে মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হতে পারে, ছোটদের আনন্দের মুহূর্তে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারে, এই উদ্যোগ যেন সেই কথাই আরও একবার মনে করিয়ে দিল।
বাঁকুড়া জেলা পুলিশের পরিকল্পনা এবং শালতোড়া থানার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, মানুষের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক শুধু দায়িত্ব আর কর্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাও।
খুদে পড়ুয়াদের মুখে হাসি ফোটানোর এই প্রয়াস নিঃসন্দেহে একটি সুন্দর মানবিক উদ্যোগ। এমন উদ্যোগ আগামী দিনেও সমাজের মানুষের সঙ্গে পুলিশ-প্রশাসনের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে, এমনটাই আশা।
সবশেষে বলা যায়, উৎসবের আনন্দ তখনই সার্থক হয়ে ওঠে, যখন সেই আনন্দ পৌঁছে যায় সকলের কাছে। আর সেই আনন্দকে খুদে পড়ুয়াদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।
বাঁকুড়া জেলা পুলিশ ও শালতোড়া থানার এই মানবিক উদ্যোগকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।
মানবিক পুলিশ, মানুষের পাশে—এই বার্তাই আরও একবার উঠে এল শালতোড়ার এই বিশেষ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে।
বাঁকুড়া লোকাল নিউজ।