কিল্লা মোটরস্ট্যান্ডে ফের মারপিট, আহত আখতার হোসেন; গোমতী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
উদয়পুর মহকুমার কিল্লা মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় আবারও মারপিটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার রাত আনুমানিক ৯টা নাগাদ মোটরস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি দোকানের সামনে মোহাম্মদ আখতার হোসেন নামে এক ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি গোমতী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহত আখতার হোসেনের বাড়ি কিল্লা মুসলিমপাড়া এলাকায়। অভিযুক্ত নজরুল মিয়ার বাড়ি উদয়পুরের শালগড়া এলাকায় বলে জানা গেছে। অভিযোগ, রবিবার রাতে আখতার হোসেনসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী মোটরস্ট্যান্ড এলাকার একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে সংঘটিত রাবার ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনের ওপর হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কিল্লা মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় রাবার ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনকে মারধর করে প্রায় দুই লক্ষ টাকা এবং রাবার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ইলিয়াস মিয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় হঠাৎ করে ইলিয়াস মিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত নজরুল মিয়া সেখানে এসে আখতার হোসেনের ওপর চড়াও হন। তিনি এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং আখতারের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আখতার হোসেন।
ঘটনার পর উপস্থিত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কিল্লা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তেপানিয়া অবস্থিত গোমতী জেলা হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে কিল্লা মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় পরপর দুটি মারধর ও হামলার ঘটনায় ব্যবসায়ী মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কিল্লা থানা সংলগ্ন এলাকায় এমন ঘটনা ঘটায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার খবর পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত নজরুল মিয়া এবং তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার পর এলাকাবাসী দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি কিল্লা মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় আইনশৃঙ্খলা জোরদারের দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
Amarpur, Gomati | Jun 7, 2026