🔴 #কাটোয়া ।। কথা, কবিতা ও গানের মেলবন্ধনে প্রকাশিত ‘ঈশানী’র সপ্তম সংখ্যা : হাজির পাঠক সহ সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষজন
কথা, কবিতা ও গানের মেলবন্ধনে সাহিত্যপ্রেমীদের উপস্থিতিতে প্রকাশিত হলো সাহিত্যপত্রিকা ‘ঈশানী’র শারদীয় সংখ্যা। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, বর্ধমান জেলা পরিষদ ভবনে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পত্রিকাটির সপ্তম সংখ্যার প্রকাশ হয়। নতুন প্রজন্মের ভাবনা, কল্পনা ও সৃজনশীলতাকে লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরার পাশাপাশি ছোটদের সাহিত্যচর্চায় উৎসাহিত করাই এই পত্রিকার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এবারের শারদীয় সংখ্যায় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে বাংলা মাধ্যমের একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক পড়ুয়ার ইংরেজিতে ফুটবলের প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশের চেষ্টা। মাতৃভাষার পাশাপাশি অন্য ভাষাতেও নিজের ভাবনা ও অনুভূতি প্রকাশের এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের সৃজনশীলতার পরিচয় বহন করে। সঠিক সুযোগ ও উৎসাহ পেলে ছোটরাও যে নিজেদের প্রতিভা মেলে ধরতে পারে, তারই উদাহরণ এই লেখা। নানা আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যেও ব্যক্তিগত আর্থিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে চলেছে ‘ঈশানী’। মাত্র দু’জনের আর্থিক সহযোগিতায় যে পত্রিকার পথচলা শুরু হয়েছিল, তা আজ সপ্তম সংখ্যায় এসে পৌঁছেছে। পত্রিকাটির ১২ বছরের পথচলা সাহিত্যচর্চার প্রতি সম্পাদক ও সহযোগীদের আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠার পরিচয় বহন করছে। সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যেও নিয়মিত সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। পত্রিকাটির লেখক ও কবিদের তালিকায় রয়েছেন রানা চট্টোপাধ্যায়, প্রশুন শর্মা সামন্ত-সহ আরও অনেকে। তাঁদের সাহিত্যচর্চা, লেখনী ও অংশগ্রহণ ‘ঈশানী’র সাহিত্যিক পরিসরকে সমৃদ্ধ করে তুলেছে। নতুন ও প্রতিষ্ঠিত লেখকদের ভাবনাকে একই মঞ্চে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে পত্রিকাটি সাহিত্যচর্চার একটি স্বতন্ত্র ক্ষেত্র গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এবারের শারদীয় সংখ্যার প্রকাশ অনুষ্ঠানেও ছিল বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি ও উৎসবের আবেগের ছোঁয়া। পত্রিকার সহ-সম্পাদক ক্ষেত্রপাল চট্টোপাধ্যায়ের ভাবনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে নারকেল নাড়ু ও কাশফুল। তাঁর বক্তব্য ও ভাবনার মূল সুর ছিল, শারদীয় পত্রিকার উদ্বোধন হবে অথচ সেখানে নারকেল নাড়ু ও কাশফুল থাকবে না, তা কি কখনও হয়! সেই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েই এবার নারকেল নাড়ু ও কাশফুলের মাধ্যমে পত্রিকার উদ্বোধন করা হয়। বাঙালির শারদীয় আবেগ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে অভিনব উপায়ে তুলে ধরার এই উদ্যোগ অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। অনুষ্ঠানে আরও একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন ঘটে। পত্রিকার সম্পাদক সাগ্নিক চট্টোপাধ্যায়ের ভাবনায় আগামী দিনে ‘ঈশানী’কে আরও বৃহত্তর পরিসরে প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সাহিত্যচর্চাকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নতুন লেখকদের সুযোগ করে দেওয়ার ভাবনাকে সামনে রেখেই এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ পায়। এদিনের মঞ্চে আরও একটি পত্রিকারও উদ্বোধন হয়, যা সাহিত্য ও পত্রপত্রিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে নতুন উৎসাহের বার্তা বহন করে। সব মিলিয়ে, ‘ঈশানী’র সপ্তম সংখ্যার প্রকাশ অনুষ্ঠান শুধুমাত্র একটি সাহিত্যপত্রিকার আত্মপ্রকাশের পর্ব নয়, বরং নতুন প্রজন্মের হাতে কলম তুলে দেওয়া, তাদের সৃজনশীলতাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যেও সাহিত্যচর্চার ধারাকে সচল রাখার এক আন্তরিক প্রয়াস। কথা, কবিতা ও গানের মধ্য দিয়ে ‘ঈশানী’র এই পথচলা আগামী দিনেও নতুন লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীদের উৎসাহিত করবে, এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।