*মৌশুনীতে আবার বিপর্যয়! এবার ১৪ নম্বর সোয়ালে ১৫০ মিটার নদীবাঁধ বিলীন, আতঙ্কে গ্রাম*
অমিত মণ্ডল, মৌশুনী:
২৪ ঘণ্টাও কাটল না, অমাবস্যার ভরা কোটালের মরণ কামড়ে ফের বড়সড় বিপর্যয় নামল সুন্দরবনের মৌশুনী দ্বীপে। বালিয়ারার সল্ট ঘেরীর পর এবার শুক্রবার সকালে নামখানা ব্লকের মৌশুনী দ্বীপের ১৪ নম্বর সোয়াল এলাকার বটতলা নদীবাঁধে এক ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিল। মুহূর্তের মধ্যে নদীর রাক্ষুসে ঢেউয়ের তোড়ে তলিয়ে গেল প্রায় ১৫০ মিটার দীর্ঘ নদীবাঁধ। এই ঘটনার পর থেকেই গোটা এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র হাহাকার ও গ্রাম ডোবার আতঙ্ক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ১৪ নম্বর সোয়াল এলাকার এই বটতলা নদীবাঁধটি দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত দুর্বল ও বিপজ্জনক অবস্থায় পড়েছিল। অমাবস্যার ভরা কোটালের জেরে নদীর জলস্তর হু হু করে বৃদ্ধি পাওয়ায় জলের তীব্র চাপ আর সামলাতে পারেনি এই জরাজীর্ণ বাঁধ। শুক্রবার সকালে জলের ধাক্কায় হুড়মুড়িয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় বাঁধের একটি বিশাল অংশ।
এলাকাবাসীর স্পষ্ট অভিযোগ, অতীতে এই নদীবাঁধ সংস্কারের নামে প্রশাসনের খাতায় লক্ষ লক্ষ টাকার খরচ দেখানো হলেও বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। নামমাত্র মাটি আর বালির বস্তা ফেলে ভাঁওতা দেওয়া হয়েছিল। কোনো টেকসই বা স্থায়ী বোল্ডারের বাঁধ নির্মাণ না করার কারণেই আজ এই দশা। স্থানীয় বাসিন্দা অজেদ ও বাবুসোনা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন “প্রায় ১৫০ মিটার নদীবাঁধ চোখের সামনে ভেঙে গেল। আমরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। যেকোনো মুহূর্তে নোনা জল ঢুকে আমাদের ঘরবাড়ি, চাষের জমি সব ভাসিয়ে দেবে। প্রশাসনের কাছে জোড়হাতে আবেদন, এই জোড়াতালির অস্থায়ী মেরামত বন্ধ করে আমাদের বাঁচানোর জন্য অবিলম্বে একটি পাকাপোক্ত ও স্থায়ী কংক্রিটের নদীবাঁধ তৈরি করা হোক।”
পরপর দু'দিন মৌশুনী দ্বীপের দুই প্রান্তে যেভাবে সমুদ্র ও নদীবাঁধ তাসের ঘরের মতো ভাঙছে, তাতে স্পষ্ট যে সুন্দরবনের এই দ্বীপটি এখন এক চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। আপাতত গ্রামবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও, সেচ দপ্তর ও প্রশাসনের দ্রুত যুদ্ধকালীন তৎপরতার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা মৌশুনী।