প্রেস বিজ্ঞপ্তি।২০/৯/২৬ ইং। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও বেকারদের কর্মসংস্থানের দাবিতে আমরা বাঙালী দলের বিক্ষোভ।
আজ আমরা বাঙালী দলের পক্ষ থেকে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে এক বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সচিব গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল প্রচার সচিব দুলাল ঘোষ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অশোক কুমার দাস সহ আমরা বাঙালী দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।শুধু পেট্রোল ডিজেলের দাম বৃদ্ধিই হয়নি।প্রায় দিনই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে।চালের দাম বর্তমান সময়ে রেকর্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। তারপর সরকার স্মার্ট সিটির নামে জনগণের উপর চড়াও হারে কর বৃদ্ধি করেছে। যার ফলে সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা। একদিকে মানুষের রুজি রোজগার দিন দিন কমছে। অপরদিকে ছোট খাটো দোকানদারদের উচ্ছেদ করে মটরষ্ট্যান্ডের মতো জায়গায় পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার নাম করে এখন বেসরকারি শপিং মলের কাছে সরকারী জমি তুলে দেওয়া হচ্ছে কার স্বার্থে। অথচ নিজ রাজ্যের যুবকরা চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে রুজি রোজগারের জন্য দোকান খোলার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় নেশা কারবারের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ছে। অথচ আগরতলার মতো একটি ছোট্ট শহরে অনেক শপিং মল খোলার পর ছোট ছোট স্থানীয় দোকানদারের ব্যাবসা বাণিজ্য লাঠে উঠেছে। এরপর সরকার ঘরে ঘরে রোজগারের নামে এখন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিচ্ছে সরকারী জায়গা।লাখ লাখ টাকা খরচ করে বি এড করে টেট উত্তীর্ণ হয়েও চাকরি মিলছে না শিক্ষা দপ্তরে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো বহু সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতার কারনে বন্ধ হয়ে গেছে এবং বহু বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে শিক্ষক না থাকায় ছাত্র ছাত্রীরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হচ্ছে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জন্য। তখন সরকারের কাছে টাকা নাই। অপরদিকে মন্দির বানানোর জন্য পর্যটন শিল্পের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। অথচ শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড। অথচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের করুন অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের কোনো আন্তরিকতা নেই। অথচ ভোটের আগে জনদরদী অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন। সেই সকল প্রতিশ্রুতির কোনটাই এখন পর্যন্ত পূরণ করতে পারেনি। রাজ্যের ও দেশের বিকাশ হয়েছে ঠিকই কিছু নেতা নেত্রীর । যারা এখন এই কয়েক বছরে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে সরকার এডিসির নির্বাচনে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার জন্য ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে বাঙালী জাতির অস্তিত্ব অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। সরকার এখন পর্যন্ত ত্রিপাক্ষিক চুক্তির শর্তগুলো জনসমক্ষে আনছে না বাঙালী ভোট হারানোর ভয়ে। আজ এডিসির বাঙালীরা এক অজানা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বাঙালীদের সামনে এক দিকে এস আই আরের নামে বাঙালীদের রাষ্ট্রহীন করার চেষ্টা ও অপরদিকে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে জমির অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্তের ফাঁদে পড়ে বাঙালী জাতি চরম বেকায়দায় পড়েছে।
সরকারের কাছে আমরা বাঙালী দলের পক্ষ থেকে রাজ্যবাসীর স্বার্থে ৫ দফা দাবি পূরণ করতে দাবি জানানো হয়েছে।
১) বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া দাম বৃদ্ধিতে লাগাম টানতে হবে।
২) অবিলম্বে বেকারদের বিভিন্ন শূন্য পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩) পূজার আগে শহরের রাস্তাঘাট গুলো দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪) স্থানীয় বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য সরকারী উদ্যোগে জমি দিয়ে দোকানপাটের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫) অবিলম্বে টেট উত্তীর্ণ বেকারদের নিয়োগ করতে হবে।
Amarpur, Gomati | Sep 20, 2026