দৈনিক সংবাদের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, সংবাদসূর্য্য প্রয়াত ভূপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত ভৌমিকের ২৯তম প্রয়াণ বার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার খোয়াই বি আর সি হলে তর্পণের উদ্যোগে এক স্মরণাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা ৬টায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রয়াত সম্পাদককে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন তর্পণের সম্পাদক দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন কবি সৌরপ্রতিম শর্মা। মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত সম্পাদক ভূপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত ভৌমিকের জ্যেষ্ঠ পুত্র বিরাট দত্ত ভৌমিক। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী অভিজিৎ দত্ত ভৌমিক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তর্পণের সভাপতি প্রিয়তোষ ঘোষ, বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস, চেয়ারম্যান সমীর কুমার দাস, বিশিষ্ট সমাজকর্মী বিনয় দেববর্মা সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।
বক্তারা বলেন, ভূপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত ভৌমিক শুধু একজন সংবাদপত্রের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন না, তিনি ছিলেন ত্রিপুরার সাংবাদিকতা ও সমাজজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তাঁর সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরা এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের শক্তিকে কাজে লাগানো। তাঁর কর্মময় জীবন পরবর্তী প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
বক্তারা বিশেষভাবে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে দৈনিক সংবাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। ১৯৭১ সালে ত্রিপুরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল। সেই সময় আগরতলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সংবাদ মুক্তিযুদ্ধের খবর, বাংলাদেশের মানুষের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর দমন-পীড়ন এবং মুক্তিসংগ্রামের নানা দিক তুলে ধরে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় দৈনিক সংবাদ কার্যালয়ও বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ ও কর্মীর যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সংবাদ পরিবেশন শুধু খবর প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; তা মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠন এবং মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দৈনিক সংবাদের সেই ভূমিকার সঙ্গে ভূপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত ভৌমিকের সম্পাদনা ও নেতৃত্বের বিষয়টি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। তাঁর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মরণোত্তর ‘ফ্রেন্ডস অব লিবারেশন ওয়ার অনার’ প্রদান করে।
এদিন বক্তারা ভূপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত ভৌমিকের কর্মময় জীবন, সাংবাদিকতায় তাঁর অবদান এবং ত্রিপুরার সংবাদপত্র জগতে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, সময়ের সঙ্গে সংবাদপত্রের ধরন ও প্রযুক্তির পরিবর্তন হলেও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার যে আদর্শ তিনি প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানের শেষে ভূপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত ভৌমিকের প্রতিকৃতিতে অতিথি সহ উপস্থিত সকলে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
Ambassa, Dhalai | Sep 21, 2026