
*৩ দিন পর নদী থেকে উদ্ধার নিখোঁজ মৎস্যজীবীর নিথর দেহ*
অমিত মণ্ডল, পাথরপ্রতিমা: তিনদিন পর নদীতে পড়ে যাওয়া নিখোঁজ মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার। প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে রুদ্ধশ্বাস তল্লাশি চালানোর পর অবশেষে উদ্ধার হলো নদীতে তলিয়ে যাওয়া নিখোঁজ মৎস্যজীবী কৃষ্ণ দাসের (২১) দেহ। রবিবার বিকেলে পাথরপ্রতিমার কে-প্লট সংলগ্ন ঠাকুরান নদী থেকে তাঁর নিথর দেহটি উদ্ধার করে পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ। মৃত মৎস্যজীবীর বাড়ি কাকদ্বীপ থানার অক্ষয়নগর এলাকায়। দেহ উদ্ধারের খবর অক্ষয়নগরে পৌঁছাতেই পরিবার জুড়ে শুরু হয়েছে কান্নার রোল, স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে গোটা এলাকা।
মৎস্যজীবী ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ই জুন নিষেধাজ্ঞা ওঠার পর ‘এফবি সাবিত্রী’ নামের একটি ট্রলারে চড়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন কৃষ্ণ দাস। গত শুক্রবার গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরে ট্রলারটি যখন পাথরপ্রতিমা ব্লকের বনশ্যামনগর সংলগ্ন নদীপথ দিয়ে ঘাটের দিকে ফিরছিল, ঠিক সেই সময় ট্রলারের সামনে ‘চণ্ডী’-র কাছে বসেছিলেন কৃষ্ণ। আচমকাই অসাবধানতাবশত পা পিছলে তিনি উত্তাল নদীর জলে পড়ে যান এবং মুহূর্তের মধ্যে স্রোতের তোড়ে তলিয়ে যান।
সহকর্মী মৎস্যজীবীরা সঙ্গে সঙ্গে পাথরপ্রতিমা থানায় খবর দিলে পুলিশ উদ্ধারকাজে নামে। গত দু'দিন ধরে সুন্দরবনের উপকূল জুড়ে প্রতিকূল আবহাওয়া চলায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছিল। তা সত্ত্বেও পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী স্পিডবোট, লঞ্চ ও নৌকার সাহায্যে নদী জুড়ে লাগাতার তল্লাশি চালায়। অবশেষে রবিবার বিকেলে কে-প্লটের কাছে ঠাকুরান নদীতে একটি দেহ ভাসতে দেখে পুলিশ তা উদ্ধার করে। পরে কৃষ্ণের পরিবারের সদস্যরা এসে দেহটি কৃষ্ণ দাসের বলে শনাক্ত করেন।
পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। মরশুমের শুরুতেই এভাবে এক মৎস্যজীবীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কাকদ্বীপ এলাকায়।