
বীরভূমের প্রত্যেক থানায় সাড়ম্বরে কালীপুজোর প্রস্তাব মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের, শুরু রাজনৈতিক চর্চা
বীরভূম: জেলার প্রত্যেকটি থানায় সাড়ম্বরে কালীপুজোর আয়োজন করা হোক। বীরভূমের সিউড়ি থানায় বিজয়া সম্মেলনীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে এমনই বিশেষ প্রস্তাব রাখলেন মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর এই প্রস্তাব ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রঘু ডাকাতের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ডাকাতি করতে যাওয়ার আগেও রঘু ডাকাত কালীপুজো করতেন। তাঁর মতে, পুলিশ বাহিনীও এক অর্থে শক্তির উপাসক। তাই জেলার প্রতিটি থানায় কালীপুজোর আয়োজন করা হলে তা পুলিশকর্মীদের মনোবল ও শক্তি জোগাবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাঙালির স্কুলে স্কুলে যেমন সরস্বতী পুজোর একটি নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে, তেমনই থানায় কালীপুজোও একটি ঐতিহ্য হয়ে উঠতে পারে। তাঁর বক্তব্য, এই উদ্যোগকে শুধুমাত্র ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার প্রয়োজন নেই। বরং পুলিশকর্মীদের মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বিষয় হিসেবেও দেখা উচিত।
থানায় কালীমূর্তি রাখার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে হাসপাতালের উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রীর কথায়, হাসপাতালে চিকিৎসক অপারেশনে যাওয়ার আগে কিংবা রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সময় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন। একইভাবে পুলিশকর্মীরাও অভিযানে যাওয়ার আগে মায়ের কাছে প্রার্থনা করতে পারেন। অপরাধীরাও হয়তো পুলিশের হাতে ধরা পড়ার ভয়ে মায়ের কাছে মুক্তির প্রার্থনা করবে।
তবে মন্ত্রীর এই প্রস্তাব নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তাঁর বক্তব্য, থানায় ধর্মাচরণে আপত্তি না থাকলেও এই ধরনের বিষয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বিবেচনার উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ধর্মীয় আচার পালন ব্যক্তিগত বিষয় হতে পারে, কিন্তু সবকিছুকে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা ঠিক নয়। ধর্মের সঙ্গে জ্ঞান ও শিক্ষার সম্পর্কও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান অর্জনের পরিবেশের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রত্যেক মন্ত্রীকে জেলাভিত্তিক কালীপুজোর দায়িত্ব দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বড় জেলাগুলিতে দু’জন করে মন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। উৎসবের মরশুমে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির উপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বীরভূমের প্রত্যেক থানায় কালীপুজো আয়োজনের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহল থেকে রাজনৈতিক মহল—সর্বত্রই শুরু হয়েছে আলোচনা। এবার এই প্রস্তাব বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
#BirbhumNews #Suri #JagannathChattopadhyay #KaliPuja #WestBengalPolitics #PoliceNews #BengaliNews #krishaksetunewsbangla