
‘ডাকাতদের গ্রাম’ তকমা নিয়ে ক্ষোভ, পুনিশোলের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন গ্রামবাসীদের
বাঁকুড়া -পুনিশোল: একজন কৃতী সন্তানের সাফল্যে যখন আনন্দে মেতেছে গোটা গ্রাম, ঠিক সেই সময় পুনিশোলের পরিচয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে অতীতের বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে পুনিশোলকে ‘ডাকাতদের গ্রাম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের।
সম্প্রতি পুনিশোল গ্রামের সন্তান কালিমুল্লাহ NEET পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেছেন। তাঁর এই সাফল্যে পরিবার-পরিজনের পাশাপাশি আনন্দিত গ্রামবাসীরাও। কিন্তু এই আনন্দের আবহের মধ্যেই সংবাদমাধ্যমে গ্রামের এমন পরিচয় তুলে ধরায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়দের একাংশ।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য, কয়েকজন ব্যক্তির কোনও বিচ্ছিন্ন অপরাধের সঙ্গে গোটা গ্রামের সমস্ত মানুষকে এক করে দেখা উচিত নয়। তাঁদের প্রশ্ন, কোনও এলাকার কয়েকটি ঘটনার ভিত্তিতে সেই এলাকার সমস্ত মানুষের পরিচয় নির্ধারণ করা কতটা যুক্তিযুক্ত?
স্থানীয়দের দাবি, সময়ের সঙ্গে পুনিশোলে এসেছে নানা পরিবর্তন। শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি গ্রামের বহু মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং বিদেশেও কর্মক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
গ্রামবাসীদের একাংশের মতে, একটি গ্রামের পরিচয় শুধু অতীতের কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনার মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। সেই এলাকার শিক্ষিত প্রজন্ম, কৃতী সন্তান এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও সমানভাবে সামনে আসা প্রয়োজন।
কালিমুল্লাহর NEET-এ সাফল্যকে তাই পুনিশোলের মানুষের কাছে গর্বের বিষয় হিসেবে তুলে ধরছেন স্থানীয়রা। তাঁদের আবেদন, কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ থাকলে তা তথ্য ও প্রেক্ষাপটসহ প্রকাশ করা হোক এবং গোটা গ্রামের মানুষের প্রতি যেন কোনও নেতিবাচক সাধারণীকরণ না করা হয়।
তবে কোনও অপরাধের অভিযোগ বা ঘটনা থাকলে তার সত্যতা ও আইনি অবস্থান নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকাশ করাও জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
গ্রামবাসীদের প্রশ্ন একটাই—কয়েকজনের বিচ্ছিন্ন ঘটনার দায় কি গোটা একটি গ্রামের পরিচয় হয়ে যেতে পারে?