
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলাটি খারিজ করে বড়সড় স্বস্তি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। হিন্দুত্ববাদী নেতা বিনায়ক দামোদর সাভারকরকে নিয়ে করা এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল।শুক্রবার (১৪ আগস্ট, ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুর ডিভিশন বেঞ্চ রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানহানি ও ঘৃণামূলক বক্তব্যের মামলা এবং নিম্ন আদালতের সমন সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করে। দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়, এই ধরনের ফৌজদারি মামলা বা বিচার প্রক্রিয়া চালানোর জন্য ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী রাজ্য সরকারের যে বাধ্যতামূলক আইনি অনুমোদন (Sanction) প্রয়োজন ছিল, তা উত্তরপ্রদেশ সরকার দেয়নি। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত উল্লেখ করেন যে, যেহেতু আইনি অনুমোদন নেই, তাই আইনি পদ্ধতি মেনে মামলাটি এখানেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হলো।
উল্লেখ্য ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে 'ভারত জোড়ো যাত্রা' চলাকালীন মহারাষ্ট্রে এক জনসভায় রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন যে, সাভারকর ব্রিটিশদের সহযোগী ছিলেন এবং তিনি ব্রিটিশদের কাছ থেকে পেনশন নিতেন।তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়।এর পরই আইনজীবী নৃপেন্দ্র পান্ডের করা একটি ব্যক্তিগত ফৌজদারি অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশের এক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিল। ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ১৫৩এ এবং ৫০৫ (জনসাধারণের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি) ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট ও মানহানির অভিযোগ তুলে উত্তরপ্রদেশের ওই আদালতের সমনকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন লোকসভার বিরোধী দলনেতা।
তবে এর আগের শুনানিতে আদালত রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছিল। শীর্ষ আদালত সতর্ক করে জানিয়েছিল যে, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা উচিত এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করা হলে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (Suo Motu) অবমাননার রুল জারি করতে পারে।এই রায়ের ফলে উত্তরপ্রদেশে সাভারকর সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলার আইনি জটিলতা থেকে আপাতত সম্পূর্ণ মুক্ত হলেন