তারাপীঠের হোটেল অগ্নিকাণ্ডে মালিক গ্রেফতার, পুকুরে বোট নামিয়ে তল্লাশি
Bengal icon news : তারাপীঠ মন্দিরের অদূরে ‘বিদেশিনী’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সোমবার ভোরের এই মর্মান্তিক ঘটনায় ইতিমধ্যেই হোটেলের মালিকের ছেলে কল্যাণ পালকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়েছিল। এ বার হোটেলের মালিক প্রবীর পালকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতি খতিয়ে দেখতেই এই গ্রেফতার বলে তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে।
অন্য দিকে, আগুনের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে হোটেলের আবাসিকদের কয়েকজন পাশের পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। সেই কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকেই পুকুরে তল্লাশি শুরু করেছে প্রশাসন। বোট নামিয়ে জলে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুকুরে কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, কিংবা আগুন থেকে বাঁচতে গিয়ে জলে ডুবে আরও কোনও প্রাণহানি ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে ডুবুরি নামিয়েও তল্লাশি চালানো হতে পারে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবার ভোর পাঁচটা নাগাদ তারাপীঠ মন্দির ও থানার কাছেই অবস্থিত ওই হোটেলে আগুন লাগে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, হোটেলের রিসেপশনে থাকা এসির এমসিবিতে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে হোটেলের বিভিন্ন অংশে। ঘন ধোঁয়ায় কার্যত দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
প্রাণ বাঁচাতে আতঙ্কিত আবাসিকদের একাংশ বিভিন্ন পথ দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কয়েকজন ব্যালকনি থেকে পাইপ ও গাছের ডাল ধরে নীচে নেমে পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন। আবার কেউ কেউ দোতলা ও তিনতলা থেকেও সরাসরি পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, আগুন লাগার পরও হোটেলের কোথাও ফায়ার অ্যালার্ম বাজেনি। এমনকি আবাসিকরা আগুন বুঝতে পেরে বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করলেও ফায়ার এগজিট গেটে তালা ঝুলছিল বলে অভিযোগ। ধোঁয়ায় চারদিক ঢেকে যাওয়ার পরও গেট বন্ধ থাকায় অনেকেই বেরোতে পারেননি বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।
ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও প্রশাসন। হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগ, জরুরি বহির্গমন পথ এবং অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে সম্ভাব্য নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান করা হচ্ছে। তারাপীঠের এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্তেই স্পষ্ট হবে।