
ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) সমর্থনে দিল্লিতে গিয়েছিলেন বাঁকুড়ার যুবক শেখ আব্দুল হাফিজ। অভিযোগ, সেই রোষেই তাঁকে এবং তাঁর বাবাকে মারধর করে । শনিবার রাতে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত্যু হয় হাফিজের বাবা শেখ মহম্মদ মাফিকের (৫০)। এই ঘটনায় বিজেপির স্থানীয় পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল CJP সমর্থক হাফিজের। যদিও এ নিয়ে রবিবার নবান্ন সভাঘরের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাঁকুড়ার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। FIR কপিতে বিজেপি কর্মীর উল্লেখ নেই।
বাঁকুড়া জেলার ইন্দাসের কারিসুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী CJP স্বেচ্ছাসেবী শেখ আব্দুল হাফিজ তাঁর গ্রামেরই একটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিকাঠামো সংক্রান্ত সমীক্ষা চালান।অভিযোগ উঠেছে, ওই দিন সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের কাছ থেকে খবর পেয়ে স্থানীয় একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী আব্দুল হাফিজের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে।আব্দুল এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর ব্যাপক মারধর করা হয়। হাফিজের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁকে একটি ভিডিও রেকর্ড করে ক্ষমা চাইতে এবং বলতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিল যে তিনি বহিরাগতদের নির্দেশে এই কাজ করছেন, যা হাফিজ প্রত্যাখ্যান করেন।হামলায় হাফিজের বাবার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। প্রথমে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) রাতে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বিজেপির পক্ষ থেকে এই হামলায় দলীয় যোগসূত্রের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। রাজ্যের পুরনগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল জানিয়েছেন যে অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইন অনুযায়ী সমস্ত দোষীদের গ্রেফতার করা হবে।পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে এফআইআর-এ অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে বিজেপির নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই, তবে তারা প্রত্যেকেই অপরাধী। ঘটনায় জড়িত মোট ৫ জন অভিযুক্তের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। হাফিজের পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে রাজ্যে চলা ‘হুমকি সংস্কৃতির’ অবসান ঘটানোর দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এই ঘটনার পেছনে থাকা সমস্ত দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন এবং দলের পক্ষ থেকে একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পশ্চিমবঙ্গে আসছে বলে জানিয়েছেন।