অঞ্চলের সাধারণ মানুষের অভিযোগ ছিল বেনামি জমি
EBC NEWS এর খবরের জেরে অবশেষে জমির দাবিদার পাওয়া গেল বেহালায়।
বেনামি জমি দখল করে অগ্রদূত ক্লাবের সদস্যদের বিরুদ্ধে কার পার্কিংয়ের ব্যবসার অভিযোগ একেবারে নস্যাৎ করে দিলেন খোদ ওই ‘বেনামি’ জমির মালিক!
EBC NEWS এর প্রতিবেদন প্রকাশের পরই নাটকীয় মোড় সরশুনা কাষ্ঠডাঙ্গা রোড সংলগ্ন বালির মাঠ বিতর্কে। যে জমিকে কেন্দ্র করে বেনামি জমি দখল এবং স্থানীয় অগ্রদূত ক্লাবের সদস্যদের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক কার পার্কিংয়ের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল, সেই অভিযোগ কার্যত উড়িয়ে দিয়ে সমস্ত মালিকানার নথি-সহ সামনে এলেন জমির দাবিদার মালিকপক্ষ।
গত ৪ জুন EBC NEWS প্রকাশিত প্রতিবেদনে এলাকার একাংশের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছিলেন, বালির মাঠটি একটি বেনামি জমি এবং সেখানে স্থানীয় অগ্রদূত ক্লাবের কয়েকজন সদস্য কার পার্কিংয়ের ব্যবসা চালাচ্ছেন। তাঁদের দাবি ছিল, মাঠটিকে পার্কিংয়ের কাজে ব্যবহার না করে আগের মতো খেলাধুলা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত রাখা হোক।
প্রতিবেদন প্রকাশের পরই তড়িঘড়ি সরশুনা থানায় হাজির হন জমির দাবিদার মালিকরা। সমস্ত প্রয়োজনীয় দলিল-দস্তাবেজ ও মালিকানার প্রমাণপত্র জমা দিয়ে তাঁরা দাবি করেন, বিতর্কিত জমিটি কোনও বেনামি জমি নয়, বরং দুই বোনের বৈধ মালিকানাধীন সম্পত্তি।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মালিকপক্ষ স্পষ্ট জানায়, কার পার্কিংয়ের সঙ্গে অগ্রদূত ক্লাবের কোনও সম্পর্ক নেই। প্রথমদিকে পার্কিংয়ের বিষয়টি তাঁদের জানা না থাকলেও পরে বিষয়টি জানতে পেরে মালিক হিসেবে তাঁরা অনুমোদন দেন। ফলে ক্লাবের সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই দাবি তাঁদের।
মালিকপক্ষ আরও জানায়, ভবিষ্যতেও ওই জমিতে কার পার্কিংয়ের ব্যবসা চালানোর অধিকার তাঁদের রয়েছে। পাশাপাশি জমি সুরক্ষিত রাখতে চারদিকে পাঁচিল ও গেট দিয়ে ঘিরে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, অতীতেও জমিটি পাঁচিল ও গেট দিয়ে ঘেরা হয়েছিল, কিন্তু পরে সেই পাঁচিল ও গেট ভেঙে দেওয়া হয়।
জমির মালিকানার নথি প্রকাশ্যে আসার পর বালির মাঠ বিতর্কে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। এখন এই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।