ঘুষ নিতে গিয়ে সরকারি অফিসার ধরা পড়লো , ঝাড়গ্রামে
ঝাড়গ্রামের জামবনি বিডিও অফিসের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বিমল সাহা ২ লক্ষ টাকা ঘুষ নিতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখার (ACB) হাতে হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছেন।
ধৃত সরকারি কর্মীর নাম বিমল সাহা। তিনি জামবনি ব্লকের রুরাল ওয়ার্ক প্রজেক্ট ডিপার্টমেন্টের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট (জুনিয়র) ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর আদি বাড়ি বোলপুরে।একটি সাব-হেলথ সেন্টার বা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈরি করেছিলেন এক সাব-কন্ট্রাক্টর (ঠিকাদার)। সেই কাজের বকেয়া বিল পাশ করিয়ে দেওয়ার নাম করে ঠিকাদারের থেকে ২ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন ওই ইঞ্জিনিয়ার।
ঠিকাদার বিষয়টি আগেই রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখাকে (Anti-Corruption Bureau) জানান। সেই মতো বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট, ২০২৬) দুপুরে এসিবি-র একটি বিশেষ দল জামবনি বিডিও অফিস চত্বরে ফাঁদ পাতে।
ঘুষখোর সরকারি কর্মচারীদের হাতেনাতে ধরার জন্য দুর্নীতি দমন শাখা একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে,পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঠিকাদারের দেওয়া টাকার নোটের গায়ে আগে থেকেই অদৃশ্য ফেনলফথালিন (Phenolphthalein) পাউডার মাখিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিডিও অফিসে নিজের চেম্বারে বসে বিমল সাহা যখনই ঠিকাদারের কাছ থেকে ওই ঘুষের টাকা হাত পেতে নেন, তখনই ওত পেতে থাকা এসিবি অফিসাররা তাঁকে ধরে ফেলেন। টাকা ছোঁয়ার ফলে ওই রাসায়নিক পাউডার ইঞ্জিনিয়ারের হাতে লেগে যায়। এরপর একটি পাত্রে রাখা সাধারণ পরিষ্কার জলে তাঁর হাত ডোবাতেই জলের রং বদলে গাঢ় গোলাপি হয়ে যায়। ফেনলফথালিন ক্ষারীয় দ্রবণের সংস্পর্শে এলে (এখানে সাবান জল বা সোডিয়াম কার্বনেট মিশ্রিত জল ব্যবহার করা হয়) এই রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। এটি আইনত প্রমাণ করে যে অভিযুক্ত ব্যক্তিটি ওই নির্দিষ্ট নোটগুলো স্পর্শ করেছেন।অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেফতার করে টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।