দিলীপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া
প্রথমত, কলকাতায় গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সব্যসাচী দত্তের বান্ধবীর বাড়ি থেকে ৩.৩০ কিলোগ্রামেরও বেশি সোনা উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় দিলীপ ঘোষ বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে রাজ্যে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের জাল কতটা গভীরে বিস্তৃত। তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে এই সোনার উৎস এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে হবে। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ লুট করে কেউ পার পাবে না।
দ্বিতীয়ত, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়া এবং নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করার প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দলটির মধ্যে নেতৃত্বের সংকট এবং ক্ষমতার লড়াই স্পষ্ট। নির্বাচন কমিশন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে, তবে এই পরিস্থিতি রাজ্যের মানুষের সামনে তৃণমূলের প্রকৃত চেহারা তুলে ধরেছে।
এছাড়া নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া নথিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের সর্বভারতীয় সভানেত্রী হিসেবে দেখানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একদিকে দলের বিভিন্ন গোষ্ঠী নিজেদের দাবি করছে, অন্যদিকে নেতৃত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এর ফলে তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
তৃতীয়ত, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় চিফ হুইপ পদে ফিরহাদ হাকিমের পরিবর্তে মদন মিত্রকে আনার দাবির বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, এটি সম্পূর্ণরূপে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে বারবার পদ পরিবর্তনের দাবি ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রমাণ করে যে দলের মধ্যে স্থিতিশীলতা নেই এবং একাধিক গোষ্ঠী নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
চতুর্থত, দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস-সহ আটজন প্রবীণ নেতাকে বহিষ্কার করার ঘটনায় দিলীপ ঘোষ বলেন, যে দল এতদিন অন্যদের শৃঙ্খলার কথা বলত, আজ সেই দলের মধ্যেই চরম বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা নিজেদের মধ্যেই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন। এই বহিষ্কার প্রমাণ করে যে দলের ভিত নড়বড়ে হয়ে গেছে এবং নেতৃত্ব নিজেদের অবস্থান রক্ষা করতেই ব্যস্ত।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সুশাসন চান। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংকট সামলাতেই ব্যস্ত। ফলে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলি উপেক্ষিত হচ্ছে। বিজেপি মানুষের স্বার্থে কাজ করে যাবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।