*একদিকে নিম্নচাপ, অন্যদিকে ভরা কোটাল! মৌসুনীতে নদী বাঁধে বিরাট ধস, দুর্নীতির অভিযোগে সরব গ্রামবাসীরা*
অমিত মণ্ডল, মৌসুনী:
একদিকে বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের ভ্রুকুটি, আর অন্যদিকে পূর্ণিমার ভরা কোটালের প্রবল জলোচ্ছ্বাস! এই জোড়া ফলায় কার্যত কাঁপছে সুন্দরবনের মৌসুনী দ্বীপ। প্রকৃতির এই তাণ্ডবের মাঝেই মৌসুনীর পয়লাঘেরীতে চিনাই নদীর বাঁধে দুটি জায়গায় দেখা দিল ভয়াবহ ধস। নদী বাঁধের এই বেহাল দশা দেখে একদিকে যেমন প্লাবনের আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামবাসীরা, তেমনই নদী বাঁধ নিয়ে তৃণমূল আমলে লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা।
পয়লাঘেরী এলাকার চিনাই নদীর বাঁধে মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই বড়সড় ধস নেমেছে।
এই এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার জুড়ে নদী বাঁধে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে।
এখানে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, প্রায় ২০০ মিটার নদী বাঁধ রীতিমতো ধসে গিয়ে নদীর জলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এই বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দা দেবু দাস, বাদল বেরা-সহ অন্যান্যরা। গ্রামবাসীদের সরাসরি অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে নদী বাঁধে অস্থায়ী কাজের নামে শুধুমাত্র প্রহসন হয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যাপক দুর্নীতি করা হয়েছে।
এখন ভরা চাষের মরশুম। এই মুহূর্তে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নদী বাঁধ মেরামত না করা হলে গোটা পয়লাঘেরী এলাকা প্লাবিত হবে এবং বিঘার পর বিঘা চাষের জমি নোনা জলে ডুবে কৃষকদের চরম সর্বনাশ হবে।
গ্রামবাসীদের দাবি, প্রশাসন এখনই আপৎকালীন কাজ শুরু করুক এবং আগামী দিনে আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কংক্রিটের স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করুক।
গ্রামবাসীদের এই ক্ষোভ এবং নদী বাঁধের ধস প্রসঙ্গে মৌসুনী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মানসী ভট্টাচার্য বলেন, "পুরো বিষয়টি সেচ দফতরকে জানানো হয়েছে। খুব দ্রুত আপৎকালীন বা জরুরিকালীন মেরামতির কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া পরবর্তী সময়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তাব দেওয়া রয়েছে।"