*উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে দুর্যোগ! গঙ্গাসাগরে মাইকিং করে কড়া সতর্কতা প্রশাসনের, ফ্রেজারগঞ্জে দুর্গতদের সঙ্গে দেখা করলেন সাগরের বিধায়ক*
অমিত মণ্ডল, গঙ্গাসাগর:
বঙ্গোপসাগরে ফুঁসছে গভীর নিম্নচাপ! আর তার জেরেই দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ঘনিয়ে আসছে বড়সড় দুর্যোগের আশঙ্কা। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোম থেকে বুধ,টানা তিন দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। উত্তাল সমুদ্রের ভ্রুকুটি সামলাতে গঙ্গাসাগর, বকখালি, নামখানা থেকে পাথরপ্রতিমা পর্যন্ত সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ উপকূলে জারি করা হয়েছে সতর্কতা।
সবচেয়ে বেশি নজরদারি চালানো হচ্ছে গঙ্গাসাগরের কপিল মুনির আশ্রম চত্বর, স্নানঘাট এবং সমুদ্র সৈকত এলাকায়।
সমুদ্রের জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় পুণ্যার্থী এবং পর্যটকদের নিরাপত্তায় সাগর ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে সৈকত এলাকায় সোমবার লাগাতার মাইকিং করা হয়। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং যে ট্রলার বা নৌকাগুলি মাঝসমুদ্রে রয়েছে, তাদের দ্রুত নিরাপদে উপকূলে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সৈকতে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সিভিল ডিফেন্স কর্মী এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সাগর ব্লকের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও জানিয়েছেন, "প্রশাসনের মূল লক্ষ্য মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস মেনে আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের কথা মাথায় রেখে উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার সমস্ত প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।"
অন্যদিকে, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মী কুন্তল বর জানান, স্নানঘাটগুলিতে কড়া নজরদারি চলছে। অনেক সময় পর্যটকরা সতর্কতা উপেক্ষা করে জলে নেমে পড়েন, সেই প্রবণতা রুখতে প্রয়োজনে সমুদ্রস্নান সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে প্রশাসন।
দুর্যোগ মোকাবিলায় নদীবাঁধগুলির ওপরও বিশেষ নজর রাখছে সেচ দফতর, বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর ও স্থানীয় প্রশাসন।
অন্যদিকে বেশ কয়েকদিন টানা বৃষ্টির কারণে জল নিকাশির সমস্যায় নামখানার ফ্রেজারগঞ্জের অমরাবতী গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রায় ১৫ টি পরিবারের লোকজন ঘর ছেড়ে হোটেলে আশ্রয় নিয়েছে। জল না নামায় এবং আবারো পুনরায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কথা শুনে আতঙ্কে ভুগছেন অমরাবতী গ্রামের চন্দন পাত্র, বিশ্বনাথ দাস, সৌমেন মান্নাদের মতো বহু পরিবার।
ইতিমধ্যেই দূর্গত পরিবার গুলির সঙ্গে দেখা করে গিয়েছেন সাগর বিধানসভার বিধায়ক সুমন্ত মন্ডল। বিধায়ক জানান, টানা বৃষ্টি এইভাবে কোনদিন এই এলাকায় হয়নি। তবে জল লেখা সেটা সমস্যা রয়েছে তিনি স্বীকার করে বলেন। জলটা একটু নামলেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিকাশি ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল করা হবে।