*জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্গম পাহাড়ে সেবা! গাছের সাঁকো হামাগুড়ি দিয়ে পার হয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে টিকাদান উমা আচার্জীর।*
লংতরাই ভ্যালি:
পাহাড়ি নড়বড়ে গাছের সেতু, নিচে গভীর খাদ কিংবা খরস্রোতা ছড়া—কোনো বাধাই থামাতে পারেনি কর্তব্যের টানকে। পাহাড়ি দুর্গম পথ পেরিয়ে প্রান্তিক মানুষের দোড়গোড়ায় স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ধলাই জেলার লংতরাই ভ্যালি মহকুমার অন্তর্গত মাছলি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মীরা।
সম্প্রতি বনাঞ্চলের গভীর অভ্যন্তরে অবস্থিত বুদ্ধি কুমার পাড়া আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির এলাকায় এক বিশেষ স্বাস্থ্য শিবির এবং এমআর (হাম ও রুবেলা) টিকাদান ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পাহাড়ি তল্লাটে পৌঁছানোর পথ ছিল মারাত্মক বিপদসংকীর্ণ। কোথাও পিচ্ছিল পাহাড়ি পথ, আবার কোথাও বা শুধুমাত্র একটি গাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি বিপজ্জনক সাঁকো। সেই নড়বড়ে গাছের সেতু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে পার হতে দেখা যায় স্বাস্থ্যকর্মী তথা আশা ফ্যাসিলিটেটর উমা আচার্জি। নিজের প্রাণ সংশয়ের তোয়াক্কা না করে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে সেবা দেওয়ার এই দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত ও আপ্লুত এলাকাবাসী।
স্বাস্থ্যকর্মীদের এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আয়োজিত শিবিরে মোট ২২ জন গ্রামবাসী প্রত্যক্ষ চিকিৎসা ও পরামর্শ লাভ করেন।
শিবিরের উল্লেখযোগ্য সাফল্য ও সেবাসমূহ:
এমআর টিকাদান: এলাকার ৬ জন শিশুকে সফলভাবে হাম ও রুবেলা (MR) প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়েছে।
ম্যালেরিয়া পরীক্ষা: মশাবাহিত রোগের প্রকোপ থেকে গ্রামবাসীদের রক্ষা করতে ১১ জন বাসিন্দার 'আরডিটি' (RDT) কিটের মাধ্যমে রক্ত পরীক্ষা করা হয়। স্বস্তির বিষয়, পরীক্ষায় প্রত্যেকের রেজাল্টই নেগেটিভ এসেছে।
চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ: এছাড়া শিবিরে আসা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত ৩ জন এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২ জন রোগীকে প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরামর্শের পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়।
পরিকাঠামোগত শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রান্তিক ও পাহাড়ের প্রতিটি মানুষের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ এবং উমা আচার্জীর মতো মাঠপর্যায়ের কর্মীদের এই নিঃস্বার্থ মানবিক ভূমিকা আজ রাজ্যজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।