
নিউ জ়িল্যান্ডে রাজকীয় অভ্যর্থনা মোদিকে, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্র সুরক্ষায় যৌথ পদক্ষেপের চুক্তি সই
Bengal icon news নিউ জ়িল্যান্ডে ‘রাজকীয় অভ্যর্থনা’ পেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার সকালে রাজধানী অকল্যান্ডের গভর্নমেন্ট হাউসে মোদীকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রের আদি বাসিন্দা মাওরি জনজাতির ঐতিহ্যবাহী ‘পাওহিরি’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ও রাজকীয় ভাবে স্বাগত জানানো হয়।দীর্ঘ ৪০ বছর পরে নিউ জ়িল্যান্ড সফরে গিয়েছেন ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁর জন্য তিন স্তরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ঘেরাটোপ ঘোষণা করা হয়েছে। ২৭ বছর আগে, ১৯৯৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের সফরের পরে এই প্রথম বার মোদীর জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ঘেরাটোপ তৈরি করল নিউ জ়িল্যান্ড। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশেষ বিমান ‘ইন্ডিয়া ওয়ান’-এ অস্ট্রেলিয়া থেকে অকল্যান্ড পৌঁছন মোদী। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রটোকল ভেঙে হাজির ছিলেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, মোদীর দু’দিনের এই সফরের মূল লক্ষ্য কৌশলগত অংশীদারি এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি। রাজকীয় সংবর্ধনার পরেই মোদী এবং লাক্সন দ্বিপাক্ষিক প্রতিনিধিস্তরের বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠকের আগে মোদী বলেন, ‘‘ভারত এবং নিউ জ়িল্যান্ড স্বাভাবিক মিত্র। সেই মৈত্রীকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া আমাদের লক্ষ্য।’’ আমদানি-রফতানি ক্ষেত্রকে চড়া শুল্ক এবং ভূরাজনৈতিক সমস্যা থেকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে গত এপ্রিলে নিউ জ়িল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি সই করেছিল ভারত। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল এবং নিউ জ়িল্যান্ডের শিল্প-বাণিজ্যমন্ত্রী ডট ম্যাকলে সেই চুক্তিতেই সই করেছিলেন। সংসদে পাশ হওয়ার পরে তা কার্যকর হবে। সরকারি সূত্রের খবর, ওই চুক্তি কার্যকর হলে উপকৃত হবে ভারতের বস্ত্র, জুতো-সহ চামড়ার বিভিন্ন পণ্য, গয়নার মতো শ্রমনিবিড় ক্ষেত্র। বাণিজ্যচুক্তির দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি শনিবার মোদী-লাক্সন বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারি’তে উন্নীত করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৫,০০০ কোটি টাকা বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে।যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠক থেকে ১০টি চুক্তি-সহ মোট ১৮টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আগামী চার বছরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রোডম্যাপ, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় (ইন্দো-প্যাসিফিক) অঞ্চলে সামুদ্রিক সুরক্ষার লক্ষ্যে সহযোগিতা জোরদার, এবং ভারতীয় নৌসেনা ও নিউজিল্যান্ড প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক লজিস্টিক সহায়তা চুক্তি। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মোদী এবং লাক্সন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও সমৃদ্ধ অঞ্চলের প্রতি তাদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁরা সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষার গুরুত্বের উপরও জোর দেন।