
*মাঝসমুদ্রে ফাটল ট্রলারের পাটাতন! ডুবন্ত 'আল ফাতেহা' থেকে ১৩ মৎস্যজীবীকে রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার*
অমিত মণ্ডল, ফ্রেজারগঞ্জ:
উত্তাল বঙ্গোপসাগরে ফের বিপত্তি! মাছ ধরতে গিয়ে উত্তালসমুদ্রে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দরের একটি ফিশিং ট্রলার। বকখালি থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার গভীরে বঙ্গোপসাগরে জাল টানার সময় আচমকাই ট্রলারের পাটাতন ফেটে হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করে। তবে বরাতজোরে এবং অন্যান্য মৎস্যজীবীদের তৎপরতায় রক্ষা পেলেন ডুবন্ত ট্রলারে থাকা ১২ জন মৎস্যজীবী। বিপদগ্রস্ত ট্রলারটিকেও উদ্ধার করে ফ্রেজারগঞ্জে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
মৎস্যজীবী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দর থেকে ১২ জন মৎস্যজীবী ‘এফবি আল ফাতেহা’ নামের একটি ট্রলার নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিল।
শুক্রবার বিকেল নাগাদ বকখালি থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে 'তেল বন্দর' এলাকায় জাল ফেলেন তাঁরা।
জাল তোলার সময় উত্তাল সমুদ্রের প্রবল ঢেউয়ের ধাক্কায় আচমকাই ট্রলারটির পাটাতন ফেটে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ট্রলারের ভেতর জল ঢুকতে শুরু করে এবং ট্রলারটি ডুবতে থাকে।
বিপদ বুঝে ট্রলারের ভেতরে থাকা ১২ জন মৎস্যজীবী চিৎকার শুরু করেন। তাঁদের চিৎকার শুনে কাছাকাছি থাকা বেশ কয়েকটি অন্য ট্রলার সেখানে পৌঁছায়। ডুবতে বসা 'আল ফাতেহা' থেকে ১২ জন মৎস্যজীবীকে নিরাপদে উদ্ধার করেন তাঁরা।
বিপদগ্রস্ত ট্রলারটিকে সমুদ্রের বুক থেকে তুলে আনতে শুক্রবার গভীর রাতেই ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দর থেকে বেশ কয়েকটি ট্রলার উদ্ধারকাজে রওনা দেয়। রাতেই দুর্ঘটনাগ্রস্থ ট্রলারটিকে টেনে আনার চেষ্টা চালালেও বারবার ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন মৎস্যজীবীরা। অবশেষে ট্রলারে থাকা ১২ জন মৎস্যজীবীকে শনিবার বিকেলে ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দরে নিয়ে আসা হয়। সেই সময় ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দরে উপস্থিত ছিলেন কাকদ্বীপ ফিশারমেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিজন মাইতি। এ বিষয়ে বিজন মাইতি বলেন, মরশুমের শুরুতেই এটা বড়সড় ধাক্কা। ইলিশের ভরা মরশুমে গিয়ে ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় বড়সড় ক্ষতি হলো মৎস্যজীবী মহলে।।