
পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার ঘুঘুমারি বাজারে এক তৃণমূল নেতাকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো এবং ডিম ছোড়ার (ডিমথেরাপি) চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পরবর্তীতে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বই এগিয়ে এসে আক্রান্ত ওই তৃণমূল নেতাকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২৭ জুন, ২০২৬) দুপুরে কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ঘুঘুমারি বাজারে। আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীর নাম ফজলু রহমান (স্থানীয় সূত্রে ফজলু হক বা ফজলু মিয়া নামেও পরিচিত)। তিনি স্থানীয় তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তিনি এলাকাছাড়া ছিলেন। শনিবার তিনি এলাকায় ফিরতেই স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ধরে ফেলেন। এরপর তাঁর কোমরে দড়ি পরিয়ে ভরা বাজারে ঘোরানো হয়, মারধর করা হয় এবং লক্ষ্য করে অনবরত ডিম ছোড়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতেও দেখা গেছে।উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ফজলু রহমানকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। বিজেপির ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি আখিরঞ্জন পাল এবং অন্য কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৃণমূল নেতাকে উদ্ধার করেন এবং তাঁকে সুরক্ষিতভাবে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেন। ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মীদের ওপর ব্যাপক অত্যাচার, বাড়িঘর ভাঙচুর, তোলাবাজি এবং বিজেপি প্রার্থীর গাড়িতে হামলার একাধিক অভিযোগ ছিল। সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই সাধারণ মানুষ এই কাজ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।বিজেপি নেতা আখিরঞ্জন পাল জানান যে, আক্রান্ত ফজলু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দাদাগিরি ও হুমকি চালিয়ে আসছিলেন। তবে আইন হাতে তুলে না নিয়ে বিজেপি কর্মীরা তাঁকে উন্মত্ত জনতার হাত থেকে বাঁচিয়ে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন।