
পূর্ব বর্ধমানের কালনায় রথযাত্রার দিন হাত-সহ জগন্নাথদেবকে দর্শন করতে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সারা বিশ্বে যেখানে প্রভু জগন্নাথদেবকে ‘ঠুঁটো’ বা হাতবিহীন রূপে দেখার নিয়ম, সেখানে কালনার এই অনন্য এবং ব্যতিক্রমী রূপটিই সাধারণ ভক্তদের প্রধান আকর্ষণ।কালনার জগন্নাথতলার মন্দিরে সারা বছর অসম্পূর্ণ বিগ্রহ পূজিত হলেও বছরে মাত্র ৩ দিন (রথযাত্রা, স্নানযাত্রা এবং উল্টোরথ) জগন্নাথদেব ও বলরামের মূর্তিতে পিতলের তৈরি হাত যুক্ত করা হয়। তবে সুভদ্রা দেবী তাঁর চিরাচরিত রূপেই (হাত ছাড়া) রথে বসেন।লোককথা অনুযায়ী, বহু বছর আগে বর্ধমানের তৎকালীন মহারাজা স্বপ্নে দেখেন যে প্রভু তাঁর কাছে জানতে চাইছেন, "জগন্নাথের হাত কই?" এরপরই রাজার নির্দেশে বিগ্রহে হাত লাগানোর রীতি শুরু হয়, যা প্রায় ২৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে।বর্ধমান রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা ও মেলা উৎসবটি শতাব্দী প্রাচীন এক গৌরবময় পরম্পরা বহন করে চলেছে।রথের দিন উৎসবের পরিবেশএই বিশেষ দিনে কালনা শহরের ভাগীরথী নদীর পাড়ে বিশাল মেলা বসে। প্রতি বছরের মতো এবারও দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার পূর্ণ্যার্থী কালনার এই ভিন্নরূপী জগন্নাথদেবের টানে এসে রথের রশিতে টান দিয়েছেন।
বর্ধমান রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠিত কালনার লালজি মহারাজের রথযাত্রা ২৮৭ বছরে পড়ল। এবার এই রথ সরকারি অনুদান পাওয়ায় জৌলুস যেমন বেড়েছে, তেমনই বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়।প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিড় সামাল দিতে এবং উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে কড়া নিরাপত্তা ও ট্রাফিকের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।