
এক বছরেরও বেশি অপেক্ষার অবসান, নবেন্দু বিকাশ দাসের উদ্যোগে চ্যামিটাড়ার পাঁচ-ছয়টি পরিবারে পৌঁছাল পানীয় জল
ঝাড়গ্রাম, লালগড়: পাইপলাইন আছে, বাড়ির সামনে কলও বসানো হয়েছে, কিন্তু সেই কল থেকে একফোঁটা জলও আসত না। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এমনই দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড় থানার চ্যামিটাড়া গ্রামের পাঁচ-ছয়টি পরিবার। বারবার আবেদন-নিবেদন সত্ত্বেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছিল এলাকার বাসিন্দাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পানীয় জলের সংযোগের পরিকাঠামো থাকলেও কার্যত জল সরবরাহ বন্ধ ছিল। ফলে প্রতিদিন দূরবর্তী এলাকা থেকে জল সংগ্রহ করতে বাধ্য হতেন গ্রামের বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছিলেন এক গৃহবধূ, যিনি দীর্ঘদিন ধরে স্পন্ডিলাইটিসে ভুগছেন। শারীরিক অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে প্রতিদিন অনেকটা পথ হেঁটে পানীয় জল আনতে হতো। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পঞ্চায়েত স্তরে জানানো হলেও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অবশেষে এলাকার সমাজসেবী ও ঝাড়গ্রাম জেলা কৃষাণ মোর্চার সহ-সভাপতি নবেন্দু বিকাশ দাসের দ্বারস্থ হন গ্রামবাসীরা। অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হন।
স্থানীয়দের দাবি, নবেন্দু বিকাশ দাসের হস্তক্ষেপের মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং বহুদিনের অচল জল সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় চালু হয়। তীব্র গরমের মধ্যে অবশেষে চ্যামিটাড়া গ্রামের ওই পরিবারগুলির বাড়িতে পৌঁছে যায় পানীয় জল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন এলাকার বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ২২ বছর দেশের সেবা করার পর অবসর গ্রহণ করেন নবেন্দু বিকাশ দাস। সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা, কর্তব্যবোধ ও মানবিক মূল্যবোধকে জীবনের মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করে তিনি বর্তমানে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
গত কয়েক মাসে লালগড় ও সংলগ্ন এলাকায় একাধিক জনকল্যাণমূলক কাজে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা নজর কেড়েছে। কোথাও পানীয় জলের সংকট দেখা দিলে জলের ট্যাঙ্কের ব্যবস্থা করা, বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তির পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, অসহায় মানুষদের সরকারি সাহায্য পাইয়ে দেওয়া, এলাকার গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়া কিংবা সম্প্রতি লালগড়-বামাল রাস্তার দীর্ঘদিনের বেহাল অংশ সংস্কারের উদ্যোগ— প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁকে সাধারণ মানুষের পাশে দেখা গেছে।
চ্যামিটাড়া গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন,
"অনেকদিন ধরে আমাদের সমস্যার কথা বিভিন্ন জায়গায় জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও সমাধান হয়নি। নবেন্দু বাবুকে বিষয়টি জানানোর কয়েক দিনের মধ্যেই জল পাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে গেল। আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।"
এই বিষয়ে নবেন্দু বিকাশ দাস বলেন,
"মানুষের কষ্টের কথা জানতে পারলে আমি চুপ করে থাকতে পারি না। সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন শিখেছি মানুষের সেবা করাই সবচেয়ে বড় কর্তব্য। রাজনৈতিক পরিচয় নয়, মানুষের প্রয়োজনই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যতদিন পারি, এলাকার মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যেতে চাই।"
চ্যামিটাড়ার বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিনের একটি মৌলিক সমস্যার সমাধান হওয়ায় শুধু কয়েকটি পরিবার নয়, গোটা এলাকাই স্বস্তি পেয়েছে। আর সেই কারণেই নবেন্দু বিকাশ দাস আজ অনেকের কাছেই শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং একজন নির্ভরযোগ্য সমাজসেবী এবং সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক।
#নবেন্দু_বিকাশ_দাস #লালগড় #ঝাড়গ্রাম #চ্যামিটাড়া #পানীয়_জল #জনকল্যাণমূলক_কাজ #মানুষের_পাশে #উন্নয়নের_পথে #CommunityService #WaterForAll #Jhargram #Lalgarh #PeopleFirst #DevelopmentWorks #GNEBangla
নিচের গ্রাফিক্সটি AI দ্বারা প্রস্তুত করা, চাই উপরের প্রতিবেদনটির সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে