
অনশনরত সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের জীবনরক্ষায় কেন্দ্রকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ মৌখিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে জানান, "প্রতিটি নাগরিকের জীবনই অত্যন্ত মূল্যবান"। তাই ওয়াংচুকের প্রাণ বাঁচাতে আইনি বা চিকিৎসাজনিত যা যা করা প্রয়োজন, কেন্দ্রকে অবিলম্বে তা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সরকারি চিকিৎসকদের দিয়ে প্রতিদিন সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। চিকিৎসকদের রিপোর্টের ভিত্তিতে যদি জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে, তবে কেন্দ্রকে অবিলম্বে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, অনশনরত এই সমাজকর্মীর জীবন অত্যন্ত অমূল্য, তাই তাঁর সুরক্ষায় কোনো খামতি রাখা যাবে না।
NEET-UG পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP)-র ব্যানারে যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন চালাচ্ছেন ওয়াংচুক। গত ২৮ জুন থেকে শুরু হওয়া এই আমরণ অনশন আজ ১৯তম দিনে পদার্পণ করেছে। ১৯ দিনের অনশনে ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুকের ওজন প্রায় ৯ কেজি কমে দাঁড়িয়েছে ৫৬.৬৫ কেজিতে। চিকিৎসকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর রক্তচাপ (১০৫/৬১ mmHg) এবং ব্লাড সুগার (৮০ mg/dL) অনেকটাই নিম্নমুখী। আদালতে আইনজীবী রাকেশ কুমার সাইনির দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার (PIL) ভিত্তিতে এই শুনানি হয়। মামলায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল যে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওয়াংচুকের প্রাণসংশয় হতে পারে, তাই প্রয়োজনে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে জোরপূর্বক তরল খাবার দেওয়ার আর্জি জানানো হয়। শুনানির সময় কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে আশ্বস্ত করে জানান, সরকারি চিকিৎসকেরা ইতিমধ্যেই তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও রিপোর্টের ভিত্তিতে যখন যা প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী কেন্দ্র সমস্ত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করবে। কেন্দ্রের এই আশ্বাসের পর হাইকোর্ট জনস্বার্থ মামলাটি নিষ্পত্তি ঘোষণা করে। তবে ওয়াংচুক একটি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, তাঁর মনোবল এখনও অটুট এবং সরকারের থেকে সদর্থক সাড়া না মেলা পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না।