
কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামঘর ধসে পড়ার ভয়াবহ দুর্ঘটনায় লোভনীয় মজুরির টোপ দিয়ে তাড়াহুড়ো করে বিপজ্জনকভাবে কাজ করানোর গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা শ্রমিক দেবাশিস দাস অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। সাধারণ দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকার বদলে ১০০০ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা ও অন্যান্য জেলা থেকে তড়িঘড়ি শ্রমিকদের নিয়ে আসা হয়েছিল। মাত্র চার দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল, যার কারণে সুরক্ষাবিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কাজ চলছিল।কলকাতা পুরসভার প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্বাভাবিক নিয়ম ভেঙে একতলা থেকে ঢালাই না করে সরাসরি তিনতলা থেকে লোহা ও কংক্রিটের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়েছিল।দুর্ঘটনার দিন সকাল থেকেই লোহার কাঠামোটি দুলছিল। ইঞ্জিনিয়ারদের নির্দেশে যখন শ্রমিকরা তা মেরামত করতে যান, তখনই হুড়মুড় করে পুরো ৩ তলা কাঠামোটি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।দুর্ঘটনার কবলে পড়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান শ্রমিক দেবাশিস দাস। মাথায়, কোমরে এবং হাতে গুরুতর আঘাত নিয়ে তিনি বর্তমানে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দেবাশিসের স্ত্রী অন্নপূর্ণা দাস জানান, বুধবার বিকেলে হাসপাতাল থেকে দেবাশিস নিজেই ফোন করে তাঁর দুর্ঘটনার কথা জানান। পরিবারটি সম্পূর্ণভাবে দেবাশিসের উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বর্তমানে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।