Public App Logo
Bengal Times : সাফল্যের গল্প অনেকেই লেখেন, কিন্তু কিছু গল্প প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। তেমনই এক নাম শালিনী অগ্নিহোত্রী। হিমাচল প্রদেশের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই তরুণী আজ দেশের অন্যতম পরিচিত মহিলা IPS অফিসার। বাস কন্ডাক্টরের মেয়ের থেকে UPSC-তে প্রথম চেষ্টাতেই AIR 285 অর্জন করে বর্তমানে DIG পদে পৌঁছনোর তাঁর যাত্রা আজ হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর কাছে অনুপ্রেরণা। শালিনীর বাবা ছিলেন হিমাচল রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের (HRTC) বাস কন্ডাক্টর। সীমিত আয়ের মধ্যেও পরিবারের সদস্যরা শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেন। স্কুলজীবন থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। দশম শ্রেণিতে ৯২ শতাংশ এবং দ্বাদশে ৭৭ শতাংশ নম্বর পান। পরে হিমাচল প্রদেশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় আসে এক অপ্রীতিকর ঘটনার পর। ছোটবেলায় বাসযাত্রার সময় তাঁর মাকে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়েছিল। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করতে না পারার অসহায়তা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, এমন এক জায়গায় পৌঁছবেন যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারবেন। সেই ঘটনাই তাঁকে সিভিল সার্ভিসের স্বপ্ন দেখায়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, শালিনী কোনও কোচিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হননি। নিজেই পড়াশোনা করতে থাকেন, অনলাইন রিসোর্স এবং পরিকল্পনা মেনেই UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। ২০১১ সালের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম প্রচেষ্টাতেই অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ২৮৫ অর্জন করে ভারতীয় পুলিশ পরিষেবায় (IPS) নির্বাচিত হন। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সীমিত সম্পদ থাকলেও কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে স্বপ্ন পূরণ সম্ভব। পুলিশি জীবনে যোগ দেওয়ার পরও শালিনী একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মদক্ষতা ও নেতৃত্বের জন্য তিনি প্রশংসিত হন এবং পরবর্তীতে ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (DIG) পদে উন্নীত হন। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় দায়িত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। শালিনী অগ্নিহোত্রীর জীবন শুধু UPSC পরীক্ষার্থীদের জন্য নয়, প্রতিটি তরুণ-তরুণীর কাছে একটি বড় শিক্ষা—পরিস্থিতি নয়, লক্ষ্যই সাফল্যের পথ নির্ধারণ করে। মায়ের অপমানকে তিনি প্রতিশোধে নয়, নিজের কৃতিত্বে জবাব দিয়েছেন। আর সেই কারণেই তাঁর গল্প আজ দেশের অসংখ্য স্বপ্নবাজ মানুষের কাছে এক অনন্য অনুপ্রেরণা। - Jangipara News