
কলকাতার তিন প্রধান ক্লাবের জার্সি গায়ে চাপানোর সৌভাগ্য খুব বেশি ফুটবলারের হয় না। আমজ়াদ আলি খান সেই বিরল তালিকার অন্যতম সদস্য। টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর ২০০২ সালে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলেন তিনি। পরের বছর কিছু সময়ের জন্য যোগ দেন মোহনবাগানে। এর পর ২০০৪ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত মহমেডান স্পোর্টিংয়ের হয়ে নিয়মিত খেলেন এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন।
রাইট-ব্যাক হিসেবে মাঠে তাঁর উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। রক্ষণে দৃঢ়ত এবং লড়াকু মানসিকতার জন্য কোচদের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছিলেন তিনি। শুধু ক্লাব ফুটবল নয়, বাংলার হয়ে সন্তোষ ট্রফিতেও প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন আমজ়াদ। ভারতের জুনিয়র দলের জার্সিতেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।
একজন ফুটবলারের জীবনে সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন চোট। আমজ়াদের ক্ষেত্রেও সেটাই সত্যি হয়েছিল। ২০০৭ সালে পায়ে গুরুতর চোট পাওয়ার পর কার্যত থেমে যায় তাঁর পেশাদার ফুটবল জীবন। যে বয়সে আরও কয়েক বছর ময়দান দাপিয়ে বেড়ানোর কথা ছিল, সেই সময়ই মাঠ থেকে সরে যেতে বাধ্য হন তিনি।
চোটের ধাক্কা শুধু তাঁর কেরিয়ার নয়, জীবনকেও অন্য দিকে মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অনেকেই মনে করেন, আরও কিছু বছর খেলার সুযোগ পেলে হয়তো কলকাতার ফুটবলে তাঁর অবদান আরও বড় হয়ে উঠত। কিন্তু ভাগ্যের লিখন অন্য ছিল।
খেলার মাঠ ছাড়ার অনেক বছর পরে অন্য এক কারণে শিরোনামে উঠে এসেছিলেন আমজ়াদ আলি খান। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স এবং নারকোটিক্স শাখার হাতে মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।