
অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগে লবকুশ মিশ্র এবং ক্যাশবাক্সের চাবির মালিক-সহ মন্দিরের ৮ জন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের দায়ের করা এফআইআর এবং বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।গ্রেফতার হওয়া এই কর্মীরা মূলত মন্দিরের দানবাক্স থেকে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী গোনার দায়িত্বে যুক্ত ছিলেন।সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ এই অর্থ ও মূল্যবান অলঙ্কার আত্মসাতের অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে।সিটের (SIT) রিপোর্টে জানা গেছে যে, মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকে অভিযুক্তদের সম্পত্তি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায় এবং তাঁরা বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে হোটেল-রিসর্ট পর্যন্ত কিনেছেন।অভিযুক্ত ৮ জনের তালিকা পুলিশের দায়ের করা এফআইআর-এ নাম থাকা যে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁরা হলেন
লবকুশ মিশ্র (Lavkush Mishra): টাকা গোনার অন্যতম প্রধান কর্মী, যাঁর বাড়ি থেকে নগদ উদ্ধার হয়েছে।
২. অনুকল্প মিশ্র (Anukalp Mishra): লবকুশের আত্মীয় এবং অনুদান বাক্স খোলার মূল দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি।
৩. রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু যাদব (Ramshankar Yadav / Tinnu Yadav): রামমন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের প্রাক্তন গাড়িচালক ও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
৪. সুভাষচন্দ্র শ্রীবাস্তব (Subhash Chandra Srivastava): স্টেট ব্যাংকের প্রাক্তন কর্মী, যিনি টাকা গোনার তদারকি করতেন।
৫. অবিনাশ শুক্লা (Avinash Shukla): মন্দিরের পরিচারক, যাঁর অ্যাকাউন্টে চুরির টাকা জমা করার প্রমাণ মিলেছে।
৬. মনীষ যাদব (Manish Yadav): টিন্নু যাদবের ভাইপো, চুরির টাকা লুকানোর অভিযোগে ধৃত।
৭. করুণেশ পাণ্ডে (Karunesh Pandey): অনুদানের রসিদ ও হিসাবের গরমিল করার অভিযোগে অভিযুক্ত।
৮. রামশঙ্কর মিশ্র (Ramashankar Mishra): টাকা ও গয়না গোনার কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মী।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন যে সনাতন ধর্মের আবেগের সঙ্গে কোনো রকম ছিনিমিনি বরদাস্ত করা হবে না এবং দোষীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।