
বালির মূল্যবৃদ্ধিতে নাজেহাল পশ্চিম মেদিনীপুরের সাধারণ মানুষ, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের উদ্যোগ
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বালির ক্রমবর্ধমান মূল্য সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে জেলার প্রশাসনিক কর্তারা, বিভিন্ন বালি খাদানের মালিক এবং জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মূল লক্ষ্য ছিল বালির দাম নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ ক্রেতাদের স্বস্তি প্রদান করা।
কিন্তু বৈঠকের পরও বাজারে বালির দামে উল্লেখযোগ্য কোনও পরিবর্তন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে মূল্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে, বাস্তবে অনেক খাদানেই সেই দামে বালি পাওয়া যাচ্ছে না। বরং নির্ধারিত মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তুললে ক্রেতাদের অন্যত্র যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১০০ সিএফটি বালির দাম সাড়ে চার হাজার টাকা থেকে ছয় হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন আবাস যোজনার উপভোক্তারা, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ এবং ছোটখাটো নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। বাড়তি নির্মাণ ব্যয়ের কারণে অনেকেই কাজ চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন।
এদিকে প্রশাসনের বৈঠকের পর খাদান মালিকদের কাছে কোনও কার্যকর নির্দেশিকা পৌঁছেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের মতে, বাজারে এখনও পর্যন্ত এমন কোনও নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না, যা বালির মূল্যবৃদ্ধি রোধ করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে কিছু খাদান মালিক নিজেদের ইচ্ছামতো মূল্য নির্ধারণ করছেন বলেই অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র বৈঠক করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বালির দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। অন্যথায় আবাস যোজনা সহ বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং তার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের উপর পড়বে।