দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ভেজাল রুখতে গঙ্গাসাগরে প্রশাসনের যৌথ অভিযান।
*অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি নয়, দোকানদারদের কড়া নির্দেশ প্রশাসনের।*
গঙ্গাসাগর: দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং ভেজাল রুখতে গঙ্গাসাগরে এবার সক্রিয় প্রশাসন। সাধারণ মানুষের স্বার্থে সাগর ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় যৌথভাবে অভিযান চালাল পুলিশ ও প্রশাসন।
আজ গঙ্গাসাগরে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং ভেজাল প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে সাগর ব্লকের বামনখালী-সহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক দোকান পরিদর্শন করেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। দোকানে পণ্যের মূল্য, বিক্রয় ব্যবস্থা এবং ভেজাল সংক্রান্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হয়।
অভিযানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়—নির্ধারিত মূল্য বা প্যাকেটজাত পণ্যের ক্ষেত্রে গায়ে লেখা MRP-এর বেশি দামে কোনও পণ্য বিক্রি করা যাবে না। একইসঙ্গে মজুতদারি, কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো এবং ভেজাল পণ্য বিক্রির মতো অভিযোগ থেকে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্যাকেটজাত পণ্যের ক্ষেত্রে MRP বা Maximum Retail Price-এর মধ্যে প্রযোজ্য কর অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং খুচরো বিক্রেতা MRP-এর বেশি দামে সেই পণ্য বিক্রি করতে পারেন না।
পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Enforcement Branch অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজারে মূল্যবৃদ্ধির উপর নজরদারি এবং মজুতদারি ও কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি রুখতে বাজার পরিদর্শনের কথা জানিয়েছে। রাজ্যে চাল, আটা, ডাল, সর্ষের তেল, পেঁয়াজ, আলু, নুন, চিনি-সহ একাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর পর্যবেক্ষণ করা হয়।
ভেজাল পণ্যের ক্ষেত্রেও রয়েছে কড়া আইন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Enforcement Branch-এর কাজের মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভেজাল পণ্য সংক্রান্ত আইন প্রয়োগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির জেরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। সেই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের স্বার্থে বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ন্যায্য দামে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করতেই প্রশাসনের এই অভিযান বলে জানা যায়।
এদিনের এই যৌথ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন SDPO সুমন কান্তি ঘোষ, SDO শুভঙ্কর ভট্টাচার্য, CI সুদীপ দাস, সাগর থানার OC অর্পণ নায়েক, সাগরের জয়েন্ট BDO অরিন্দম পাত্র-সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক।
প্রশাসনের এই উদ্যোগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং ভেজাল ও অনৈতিক ব্যবসার বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমনটাই আশা করছেন সাধারণ মানুষ।