নাকাশীপাড়ায় কংগ্রেস নেতা-ছেলে খুনে ১৩ গ্রেফতার, উদ্ধার ১৩ আগ্নেয়াস্ত্র ও ১০০ রাউন্ড কার্তুজ
নদিয়া: নাকাশীপাড়ায় কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান খুনের ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পুলিশের। ১৫ আগস্ট নাগাদি এলাকায় জোড়া খুনের ঘটনায় তিন শ্যুটার-সহ মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের কাছ থেকে ১৩টি বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, ১০০ রাউন্ড কার্তুজ, একটি মোটরবাইক এবং একটি চারচাকা গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও কয়েকজন অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
বৃহস্পতিবার নাকাশীপাড়া থানায় সাংবাদিক বৈঠক করে এই তথ্য জানান কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অতুল ভি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিনই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর তদন্তে নেমে অন্যান্য অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে তাদের ধরতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে দুই শ্যুটার ঘটনার পর রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে যায়। আত্মগোপন করে তারা ভিনরাজ্যে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ শুরু করেছিল। তদন্তের সূত্র ধরে একজনকে কর্নাটকের বিজয়পুর এবং অপরজনকে ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাকি এক শ্যুটারকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মূলত এলাকা দখলকে কেন্দ্র করেই এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমানের এলাকায় যথেষ্ট প্রভাব ছিল। অন্যদিকে পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী জুব্বার শেখের প্রভাব কমছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সেই থেকেই পুরনো রাজনৈতিক ও এলাকা দখলের দ্বন্দ্বের জেরে খুনের ছক কষা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
এই ঘটনায় জুব্বার শেখের দুই ছেলের নামও অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে। তারা বর্তমানে পলাতক। তাদের সন্ধানে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। পাশাপাশি, পুলিশের দাবি অনুযায়ী এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে পঞ্চায়েত প্রধান ফতেমা বিবির নাম উঠে এসেছে। তাঁকেও ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও যানবাহন উদ্ধার হওয়ায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে বলে মনে করছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও কার্তুজের উৎস এবং এই ঘটনায় আরও কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অল্প সময়ের মধ্যে ১৩ জনকে গ্রেফতার এবং বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধারের ঘটনায় নাকাশীপাড়া জোড়া খুনের তদন্তে বড়সড় অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।
Kolkata, Kolkata | Aug 27, 2026