
ইউরোপের একাধিক দেশে তাপমাত্রা ছুঁয়েছে বা ছাড়িয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্পেনে তাপজনিত কারণে ইতিমধ্যেই ২০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জার্মানিতে গড়েছে নতুন জাতীয় তাপমাত্রার রেকর্ড, আর বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া এমন চরম তাপপ্রবাহ কার্যত অসম্ভব ছিল।
ইউরোপ জুড়ে চলা নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ এখন আর শুধু গরমের অস্বস্তি নয়, বরং এক গভীর জলবায়ু সংকটের বাস্তব চিত্র হয়ে উঠেছে। স্পেনে ইতিমধ্যেই তাপজনিত কারণে ২০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে। ফ্রান্সে অতিরিক্ত গরমে গাড়ির ভিতরে আটকে পড়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি গরম থেকে রেহাই পেতে নদী, হ্রদ বা সমুদ্রে নামার সময় ডুবে গিয়ে ৫৫ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণ গিয়েছে। জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া, মলডোভা-সহ একাধিক দেশে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অনেক জায়গায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছে, আর জার্মানিতে নতুন জাতীয় তাপমাত্রার রেকর্ড হিসেবে ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নথিভুক্ত হয়েছে।এই চরম গরমে শুধু মানুষের জীবনই নয়, বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শহরের পরিকাঠামোও। অতিরিক্ত তাপে রাস্তার পিচ নরম হয়ে যাচ্ছে, রেললাইন বেঁকে যাওয়ার আশঙ্কায় ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উপরও তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হিটস্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন এবং শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলিতে কংক্রিট, অ্যাসফল্ট এবং বহুতল ভবনের কারণে তৈরি হওয়া ‘নগর তাপদ্বীপ’ প্রভাব শহরের তাপমাত্রাকে আশপাশের গ্রামীণ এলাকার তুলনায় কয়েক ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়িয়ে দিচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, রাতের তাপমাত্রাও পর্যাপ্তভাবে কমছে না। ফলে দিনের গরমের ধকল কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে না মানুষের শরীর, যা প্রবীণ, শিশু এবং দীর্ঘদিনের অসুস্থদের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর বিশ্লেষণ বলছে, মানুষের তৈরি গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন না থাকলে ইউরোপের এই মাত্রার তাপপ্রবাহ কার্যত অসম্ভব ছিল। কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দীর্ঘদিনের ব্যবহার বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড জমা করেছে, যার ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। সমুদ্রের জলও অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে পড়ায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়েছে, যা তাপপ্রবাহকে আরও তীব্র করছে। বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা, গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন দ্রুত কমানো না গেলে ভবিষ্যতে এমন তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী এবং প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে। তার প্রভাব পড়বে কৃষি, বাইরের পরিবেশে কাজ করা শ্রমিক, খাদ্য উৎপাদন, জনস্বাস্থ্য এবং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।
#ClimateChange #Heatwave #Europe #GlobalWarming #ExtremeWeather #Environment
Suri 2, Birbhum | Jun 28, 2026